টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিদ্যুৎ সরবারাহ কেন্দ্র তিন থেকে চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে তেলের ট্যাংক ডুবে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত না থাকায় গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে হাতিয়া পৌরসভার বিভিন্ন খাল ভরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হাতিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ভিতরের ড্রেনগুলো দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার ও পরিষ্কার না করার কারণে ময়লা আবর্জনা জমে এগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে গত কয়েকদিনের প্রবল টানা বর্ষণে বৃষ্টির পানি জমে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ভেতরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় তিন থেকে চার ফুট পানি জমে বিদ্যুতের মূল্যবান জিনিসপত্র পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি ডিজেল মজুদ করে রাখার ট্যাংকটিও ডুবে গেছে। এ অবস্থায় হাতিয়ার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ পেতে সমস্যা হচ্ছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হাতিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আাবাসিক প্রকৌশলী মশিউর রহমান জাগো নিউজকে জানান, বর্তমানে এ বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে সাড়ে ৮০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ডিজেল চালিত ইঞ্জিন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ঘণ্টায় তিন ব্যারেল করে তৈল দরকার হয়। সে হিসেবে ১২ ঘণ্টায় প্রায় ৩৬ ব্যারেল ডিজেল লাগে। কিন্তু টানা বর্ষণে মাটির নিচে ডিজেল রাখার ট্যাংক ডুবে গেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে। ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে কোনো রকমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গ্রাহকের চাহিদা মেটানো হলেও এ অবস্থা আরও কয়েকদিন চলতে থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে।
হাতিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ লিটন জানান, ১৯৮৬ সালে হাতিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি স্থাপিত হলেও এরপর থেকে মূলত এর অবকাঠামোগত বড় ধরনের কোনো সংস্কার করা হয়নি। যেটুকু বরাদ্দ করা হয় তা কর্মকর্তাদের চা নাস্তায় খরচ হয়ে যায়। এমনিতে এ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে চরম ঘাটতি রয়েছে তার উপরে এখন টানা বর্ষনের ফলে ডিজেল রাখার ট্যাংকসহ মূল্যবান বৈদুতিক সরঞ্জাম পানি নিচে তলিয়ে গেছে।
তিনি জানান, হাতিয়ার বুড়ির চর ইউনিয়নের হরেন্দ্রপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভূমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেখানে ভবিষ্যতে এ কেন্দ্রটি স্থানান্তর করা হলে এ সমস্যা আর হবে না।
মিজানুর রহমান/আরএআর/পিআর