দেশজুড়ে

‘প্রতিবাদ করার কেউ নেই’

নয় মাস হলো ভ্যানটি লোন নিয়ে কিনেছি। এখনো লোন শোধ হয়নি। এরই মধ্যে শহরে চলছে মোটরযানের বিরুদ্ধে অভিযান। ধরতে পারলেই দুই হাজার টাকা দাও না হলে ভ্যানের মোটর খুলে রেখে যাও।

এই ঝুঁকি মাথায় নিয়েও চুরি করে ভ্যান চালাচ্ছি। গরিব মানুষ। টাকা রোজগার করে চাল-তরকারি কিনে নিয়ে গেলেই খাওয়া হবে। বউ, বাচ্চা বাসায়। কী করবো বলুন, প্রতিবাদ করার কোনো মানুষ নেই।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৪টায় শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে আমতলা যাতায়াতের সময় জাগো নিউজকে এমন আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেন শহরের মোটরভ্যানচালক সিরাজুল মোল্লা। শহরের কামালনগর এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা তিনি।

গ্রামের বাড়ি জেলার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নে। বাবা মকছেদ মোল্লা ও মাকে নিয়ে থাকেন সেখানেই।

ভ্যানচালক সিরাজুল মোল্লা জাগো নিউজে বলেন, এখন শুনছি, আমাদের ভ্যানগুলো অবৈধ। এখন অন্যকাজেও যেতে পারছি না। বড় মেয়েটি ক্লাস ওয়ানে পড়ে। ছোট মেয়েটি এখনো কোলে। ভ্যান চালিয়ে রোজগার করে পরিবারের খরচ জোগাতে হয়। বাড়িতে মা-বাবার জন্যও টাকা পাঠাতে হয়।

ভারাক্রান্ত মনে এই ভ্যানচালক বলেন, হঠাৎ মোটরভ্যানের বিরুদ্ধে এই অভিযানের জন্য সবকিছু যেন বন্ধ হয়ে আসছে। পেটের তাগিদে, স্ত্রী, সন্তানের কথা ভেবেই চুরি করে চালাচ্ছি। এমন অবস্থা শুধু আমার নয় শহরের অধিকাংশ ভ্যানচালকের। এরই মধ্যে অনেক ভ্যান আটক করেছে। সব ভ্যান ছেড়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে, সাতক্ষীরা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তপন কুমার মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, অবৈধ মোটরযানের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। বেলা দুইটা পর্যন্ত ৪৭টি ভ্যান আটক করা হয়েছে। এখনো অভিযান চলমান। তবে কোনো ভ্যানচালকের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়া হচ্ছে না বলে জানান এই ট্রাফিক কর্মকর্তা।

আকরামুল ইসলাম/এএম/জেআইএম