প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে চরম বিদ্যুৎ ও পানি সঙ্কটে নাকাল রাঙ্গামাটিবাসী। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে এলাকাবাসীর। বিপর্যস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। পানির অভাবে প্রত্যন্ত এলাকায় বহু অধিবাসী উঁচুভূমি ছেড়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন নিচু ভূমি এলাকায়। পাশাপাশি প্রচণ্ড তাপদাহে ব্যহত হচ্ছে চাষাবাদ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই বিদ্যুৎ ও পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে রাঙ্গামাটিতে। কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সঙ্কট তীব্রতর হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ৮০ ফুট লেভেলে। এ মৌসুমে হ্রদে পানির স্তর থাকার কথা ৮২ দশমিক ২৬ ফুট। কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ ও নৌযান চলাচলে সঙ্কট বেড়েছে।এদিকে কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতার কারণে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মারাত্মক আকারে উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রের পাঁচ ইউনিটের মধ্যে চারটি বন্ধ হয়ে গেছে। সচল একটি ইউনিট দিয়ে পিক-আওয়ারে রেশনিং পদ্ধতিতে দৈনিক সর্বোচ্চ ৪০-৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ।পাশাপাশি চলছে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাঙ্গামাটি শহর এলাকাসহ আশেপাশের লোকজনের স্বাভাবিক জীবনযাপন। বর্তমানেও কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত কমছে। ফলে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন সঙ্কট বাড়ছে। আর বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে পানি সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ।স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাঙ্গামাটি সদরসহ জেলার সবকটি উপজেলায় প্রায় টিউবওয়েল অকেজো। শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদসহ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় জেলার কয়েক হাজার রিংওয়েল ও টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ওইসব রিংওয়েল ও টিউবওয়েল থেকে পানিই উঠছে না।রাঙ্গামাটি সদরের বন্দুভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বরুণ কান্তি চাকমা জাগো নিউজকে জানান, বর্তমানে তার ইউনিয়নে তীব্র পানির সঙ্কট। ইউনিয়ন এলাকার সবগুলো রিংওয়েল ও টিউবওয়েল অকেজো। শুকিয়ে গেছে ছড়া, ঝর্ণা ও ঝিরির পানি। পানির অভাবে ইউনিয়নের উঁচু পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী অনেক গ্রামবাসী এলাকা ছেড়ে নিচু ভূমিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। মোন আদাম, পলাদ আদাম, কড়ল্যাছড়িসহ কয়েক গ্রামের অনেক অধিবাসী পানির অভাবে এলাকাছাড়া। আর প্রচণ্ড তাপদাহে ব্যাহত হচ্ছে এলাকার চাষাবাদ।এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানান, কাপ্তাই হ্রদে অতিরিক্ত পানি কমে যাওয়ায় শহরের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দিয়ে হ্রদ থেকে পানি উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ নিয়মিত পানি সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ নিয়ে চরম বিপাকে তারা। আর শহরে দেখা দিয়েছে পানির সঙ্কট।সূত্র মতে, রাঙ্গামাটি শহরে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ গ্যালন। কিন্তু এ পানির চাহিদা মেটাতে দারুণভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে জনস্বাস্থ্য বিভাগকে। অন্যদিকে, পানির অভাব দূর করতে পাহাড়ি গ্রামীণ এলাকার মানুষ নিচু ভূমিতে গর্ত করে নিসৃত পানি সংগ্রহ করছেন অতিকষ্টে। কিন্তু সংগ্রহ করা ওই পানি ব্যবহারে পাহাড়ি এলাকার মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি দূষিত পানি ব্যবহারে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী সাজেকে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ছড়ায়। এতে মৃত্যু হয়েছে ছয় গ্রামবাসীর।সুশীল প্রসাদ চাকমা/এমজেড/আরআই