গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলো পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকাল ৬টায় ফুলছড়ি পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। দুপুর ১২টায় ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদ ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি, উড়িয়া ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলো পানিতে প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট, পাটক্ষেত ও ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কিছু বাড়ির আঙিনায় পানি উঠেছে। ফলে তাদেরকে সাংসারিক কাজ করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য উড়িয়া গ্রামের মো. মজনু মিয়া (২৮) বলেন, গত তিনদিন থেকে রাস্তাঘাট ও ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহাতাব উদ্দিন সরকার মুঠোফোনে বলেন, চরাঞ্চলের অনেক ঘরেই পানি উঠেছে। এ ছাড়া ক্রমাগত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফ্লাড সেন্টারগুলোতে আশ্রয়ের জন্য মানুষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পাউবো) মো. মাহবুবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ফুলছড়ি পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদ ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
রওশন আলম পাপুল/এমএএস/পিআর