পাহাড়ে অব্যাহত পাহাড়ধসের মধ্যেই খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বিকল্প সড়ক তৈরির অজুহাতে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। দীঘিনালার বাবুছড়ায় এক্সকাভেটর (যন্ত্র) দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ছয়টি ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। সওজ নিয়োজিত জাকির এন্টারপ্রাইজ নামে কুমিল্লার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজ পেয়েছে।
বাবুছড়ার বাঘাইছড়িমুখ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে একটি পাহাড় প্রকাশ্যে এক্সকাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে। ছয়টি ট্রাক্টরের সাহায্যে পাহাড় কাটা মাটিগুলো পরিবহন করে বিকল্প সড়কের মাটি ভরাট করা হচ্ছে।
এক্সকাভেটরের চালক হাবিবুর রহমান জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতাধীন বাঘাইছড়িমুখ খালের সেতু নির্মাণের জন্য বিকল্প সড়ক তৈরির জন্য পাহাড় কেটে মাটি নেয়া হচ্ছে।
মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, বাঘাইছড়িমুখ খালের সেতুটির কাজ শুরু করতে সেতুর পাশে বিকল্প সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। বিকল্প সড়কের জন্য মাটি প্রয়োজন বিধায় পাহাড়টি কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দীঘিনালা পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক পলাশ বড়ুয়া বলেন,পাশের জেলা রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি তিন পার্বত্য জেলায় অব্যাহত পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটার পরও কী সওজের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বোধোদয় হয়নি? বিকল্প সড়ক তৈরির নামে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা কোনোভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।
পাহাড় কর্তনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সওজ কোনোভাবেই পাহাড় কাটার দায় এড়াতে পারে না।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আব্দুস শহীদ বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কীভাবে বিকল্প সড়ক তৈরি করবে, সেটা তাদের ব্যাপার। পাহাড় কাটার বিষয়ে সওজের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই বলেও জানান তিনি।
পাহাড় কাটা বন্ধ করতে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের উপ-বিভাগীয় প্রকেশৌলীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রশাসনিকভাবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/আরএআর/এমএস