দেশজুড়ে

ঝরে পড়া লিচুতেই হচ্ছে ওদের জামাকাপড়

দিনাজপুরে এখন চলছে লিচু উৎসব। আর এই মৌসুমে আম, কাঁঠাল ও লিচু খাওয়ার জন্য গ্রীষ্মকালীন ছুটি দেয়া হয়েছে সব স্কুল কলেজগুলোতে। এখন রাস্তা-ঘাট যে দিকই তাকানো যায় সেদিকেই চোখে পড়বে জোনাকি পোকার মত জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকা থোকায় থোকায় পাকা লিচু। রাস্তার ধারে চোখে পড়বে স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের বিক্রি করতে আসা লিচুর বাজার। তারা ঝরে যাওয়া ও বাছাইতে বাদ পড়া লিচু সংগ্রহ করে এনে রাস্তার ধারে বসে বিক্রি করছে। বাড়িতে ব্যবহার করা বিভিন্ন ধরণের তৈজসপত্রে লিচু ভরে নিয়ে এসে বসেছে রাস্তার ধারে। সারি সারি লিচু বোঝাই বাসনগুলো সাজিয়ে রেখে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন বয়সের স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। গাছ থেকে লিচু পাড়ার সময় ও বাছাইয়ের সময় ঝরে পড়া লিচু সংগ্রহ করে পসরা সাজিয়ে বসে থাকার দৃশ্য দেখে যে কেউই মুগ্ধ হবেন। এ যেন এক অন্যরকম লিচু উৎসব। এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে সারা দেশে লিচুর জন্য পরিচিত ও লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর এলাকায়। প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তার দু`ধারে স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা ঝরে পড়া লিচুর পসরা নিয়ে বসেছে। কম দামে লিচু পেয়ে গ্রাহকরাও লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এখান থেকে।রাস্তার ধারে লিচু নিয়ে বসে থাকা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আরিফুল ইসলাম বলে, আমি একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করি। এখন আমার মাদ্রাসা ছুটি। তাই আমি ছুটে পড়া এবং বাছাইয়ের সময় বাদ পড়া লিচু সংগ্রহ করে এনে বিক্রি করছি। এতে যে টাকা পাব তা দিয়ে আমি ঈদের সময় নতুন পোশাক কিনবো। ছোট্ট লিলিমার বাড়ি মাসিমপুর গ্রামে। তার বয়স ৫ বছর এখনো পূর্ণ হয়নি। টিফিন বাটিতে করে লিচু নিয়ে এসে বিক্রি করার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। লিচু বিক্রির টাকা তুমি কী করবে জানতে চাইলে সে জানায়, এই টাকা সে ফুফির কাছে জমা রাখবে। তারপর সেই টাকায় সে জামা ও চুরি কিনবে। মা তাকে বলেছে ফুফির কাছে টাকা জমা রাখতে। তাই সে ফুফির কাছে টাকা জমা রাখছে।লিচু কিনতে আসা শহিদুল ইসলাম, জিনাত আরা ও ফজিবর রহমান জানান, তারা প্রতি বছর এখানে ছুটা লিছু কিনতে আসেন। অনেক ভালো ভালো লিচু কম দামে কিনতে পাওয়া যায়। তাছাড়া লিচুর বাজারটি যেকোনো পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে। বিভিন্ন কাজে আসা মানুষ এখান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যান। লিচু বাগানের মালিক নজরুল ইমলাম জাগো নিউজকে জানান, শিশুরা লিচু সংগ্রহ করে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পায়। সারা মাসে তারা ৩/৪ হাজার টাকা পেয়ে থাকে। এই টাকায় শিশুরা নতুন পোশাক নেয়ার পাশাপাশি অনেক শিশু তাদের পড়ালেখার জন্য খাতা কলম, প্রাইভেটের বেতন ও স্কুলের বেতন দিয়ে থাকে।এমদাদুল হক মিলন/এমজেড/এমএস