মোটরসাইকেলে টানা ৫৫ কিলোমিটার বাঁধ ঘুরে বন্যার্তদের খোঁজখবর, নদী ভাঙন এলাকা ও ব্রহ্মপুত্র নদের গাইবান্ধা জেলা রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত পরিদর্শন করেন তিনি।
প্রথমে সড়কপথে গাইবান্ধা থেকে সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী এলাকায় যান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল। পরে সকাল ৮টায় সেখান থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এসময় ১২টি মোটরসাইকেলে ২৪ জন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন।
তারা নদীভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে থেমে থেমে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় স্ব-স্ব এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাত করে তাদের এলাকার নদীভাঙন ও বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এভাবে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের গাইবান্ধা জেলা রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫৫ কিলোমিটার অংশ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক।
বাঁধটি পরিদর্শন শেষে বেশ কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পানিবন্দি দরিদ্র মানুষদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার জন্য স্ব-স্ব এলাকার উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশনা প্রদান ও বাঁধটি সংরক্ষণের জন্য নদী নিকটবর্তী জনসাধারণকে উদ্ধুদ্ধ করেন জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল।
এসব বিষয়ে রোববার বিকেল ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, বাঁধটির অনেক গুরুত্ব রয়েছে। বন্যার্তদের সহযোগিতা, নদীভাঙন ও বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করতে সরেজমিন পরিদর্শনে বের হই। এছাড়া বাঁধটিকে ঘিরে কোনো প্রকল্প নেওয়া যায় কিনা সেটাও ভেবে দেখা হচ্ছে। বাঁধটি পরিদর্শনের সময় কয়েকজন এসে বলেছেন তাদের বাড়ি নেই। তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাঁধটি পরিদর্শনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নদীভাঙন দেখা গেছে। সেখানে আজ ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। বন্যার পানি বেড়ে গেলে মানুষদেরকে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ রয়েছে। আতংকিত হওয়ার কিছু নেই।
বাঁধ পরিদর্শনে তার সঙ্গে ছিলেন, গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান, সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জল কুমার ঘোষ, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল হালিম টলস্টয়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম গোলাম কিবরিয়া ও সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান প্রমুখ।
রওশন আলম পাপুল/এফএ/পিআর