দেশজুড়ে

ব্রহ্মপুত্রের পানিতে দুর্ভোগে মানুষ

গাইবান্ধায় নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবণতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ। কোথাও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে না গেলেও প্লাবিত হয়েছে নদীর নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের এলাকাগুলো।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৯ দশমিক ৯৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল রোববার তা ছিল বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপরে। এছাড়া ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৭ দশমিক ৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে রাস্তা-ঘাট, বাড়ির আঙিনা, স্কুলমাঠ প্লাবিত হয়েছে। এসব উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের অনেক নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মানুষ গবাদিপশুগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। অনেক এলাকায় স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষ নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ উচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। তবে এখনো ত্রাণ দেওয়া শুরু হয়নি কোথাও।

রোববার বিকেলে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ সংলগ্ন বালাসীঘাট, কাইয়ারহাট, খালাইহারা, খোলাবাড়ি ও কেতকিরহাটসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, ৫ দিন আগে থেকে বাড়ির আঙিনায়, রাস্তাঘাট, স্কুলমাঠ ডুবে গেছে। ফলে মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘরে রান্নার কাজ করতে হচ্ছে। গোয়ালঘরে পানি ওঠায় গবাদিপশু বাড়ি সংলগ্ন উঁচু স্থানে রাখা হয়েছে। টিউবওয়লের গোড়ায় পানি ওঠায় ডায়রিয়াসহ পেটের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল হালিম টলস্টয় মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার দরিদ্র মানুষদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দুই একদিনের মধ্যেই ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হবে। ফুলছড়ির চারটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. আমির আলী জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের প্রায় ১ হাজার জনের ১২০ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে। কন্ট্রোল রুম খোলার কাজ চলছে। এছাড়া খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রয়েছে। আরও চাহিদা চাওয়া হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইদ্রিশ আলী জাগো নিউজকে বলেন, বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষদের জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই দেওয়া শুরু হবে। আজ বিকেল সাড়ে চারটায় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিং রয়েছে। এরপর পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা জানা যাবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৯ দশমিক ৯৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত দুইদিন পানি স্থির থাকলেও সোমবার সকাল থেকেই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, পানি বৃদ্ধি পেলে মানুষদের নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে চাল, ডাল, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ রয়েছে। আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। ত্রাণ বিতরণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

রওশন আলম পাপুল/এফএ/জেআইএম