উজানে ঢল কমে যাওয়ায় নীলফামারীর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নীলফামারীর বন্যা দুর্গত এলাকার ৩ হাজার পরিবারের মাঝে দুই দফায় ২০ কেজি করে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্দ্যেগে তিস্তা কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পবিবারের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দুইজন দুস্থ নারীকে শাড়ি, ২শ জনকে লুঙ্গি ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের একতা বাজার সংলগ্ন সেচ্ছাশ্রমে মাটির বাঁধ নির্মাণের জন্য ১০ হাজার খালি বস্তা বিতরণ করেন নীলফামারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন।
এ সময় প্যানেল চেয়ারম্যান দেওয়ান বিপ্লব আহম্মেদ, আলী হোসেন, মেহেরুন পলীন, জেলা পরিষদের সদস্য সেলিম সরকার লেবু, আব্দুল মতিন খান, রোখসানা পারীন দিপ্তি, খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার, টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।
তিস্তার বন্যা দুর্গদের মাঝে সরকারিভাবে ৭০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ এক লাখ টাকার শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ আছে।
নীলফামারী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, নতুন করে ডিমলা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৪ লাখ টাকা ও জলঢাকা উপজেলার জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে তা বিতরণ করা হবে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নতুন করে ৮০ মেট্রিক টন চাল ও চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া বিভাগের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়াস্থ তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বুধবার সকাল থেকে পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জাহেদুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম