দেশজুড়ে

ইলিশ না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা

মার্চ-এপ্রিল দু`মাস অভয়াশ্রমের পর ২৪ দিন অতিবাহিত হলেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ নেই। সারাদিন জাল বেয়ে ২/৩টি ইলিশ নিয়ে অথবা কখনো খালি হাতে জেলেরা তীরে ফিরছেন। এ অবস্থায় তাদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ জেলে পরিবার এখন  মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিভিন্ন সমিতি ও মাল্টিপারপাসের ঋণ পরিশোধের চাপে অনেক জেলেকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। ইলিশ রক্ষায় সরকার মার্চ-এপ্রিল দু`মাস পদ্মা-মেঘনার অভয়াশ্রমে ইলিশের পোনা জাটকাসহ সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী দাদন দিয়ে জেলেদের জাটকা নিধনে বাধ্য করে অবাধে জাটকা নিধন করেছেন। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় জাটকা নিধনও চলে প্রকাশ্যে। যার প্রভাব পড়েছে এখন। নদীতে নেই বড় আকারের কোনো ইলিশ। চাঁদপুরের মেঘনা পাড়ের জেলে মো. হান্নান মিয়া জাগো নিউজকে জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ তিনি নদীতে মাছ ধরছেন। কিন্তু ইলিশ সঙ্কটের এমন হাহাকার আর কখনো দেখেননি তিনি।  চাঁদপুরের বৃহৎ ইলিশের রফতানি কেন্দ্র বড় স্টেশন ও নদীর পাড়ের ইলিশের আড়তগুলোতেও এখন ইলিশ বেচা-কেনার হাক ডাক নেই। আড়তে বসে রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীরা অবসর সময় কাটাচ্ছেন। আর এসব ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হাজার হাজার শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের ইলিশ বিশেষজ্ঞ মো. আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, মে-জুন মাসে এভাবেই নদীতে ইলিশ কম পাওয়া যায়। তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে নদীর স্রোতধারা বাড়লে ইলিশ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আবার শঙ্কাও প্রকাশ করে বলেন, নদীতে অনেক ডুবোচর পড়ায় ইলিশ বিচরণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই সাগর থেকে ইলিশ নদীতে আসতে পারছে না। এদিকে জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচি জোরদার এবং নদীর ডুবোচরগুলো খনন না করলে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া যাবে না বলে মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন। ইকরাম চৌধুরী/এমজেড/এমএস