দেশজুড়ে

খুলনায় অব্যাহত পরিবহন ধর্মঘটে দুর্ভোগ চরমে

আটক চালক, হেলপার ও চেকারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় চলছে পরিবহন ধর্মঘট। টানা ধর্মঘটে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো দাবি আদায়ে অনড় থাকায় আর কতদিন চলবে পরিবহন ধর্মঘট সেটা কেউ নিশ্চিত নয়। এতে দুর্ভোগ বাড়ছেই।দূরপাল্লার বাস চলচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিক্ল্প হিসেবে ট্রেন বেছে নিয়েছেন। রোববার যশোর রেলস্টেশনে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক আজিজুল আলম মিন্টু জানান, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও মধুখালী থানার ওসির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাতে সড়কে পরিবহন চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ধর্মঘট চলছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।তিনি আরো জানান, সোমবার নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে তাদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে পরিবহন মালিক শ্রমিকেরা বেলা ১২টায় বৈঠক করবেন। এরপর সিদ্ধান্ত হবে ধর্মঘট চলবে কী চলবে না।শ্রমিক নেতারা জানায়, ১৮ মে রাতে ঢাকা থেকে সোহাগ পরিবহনের একটি বাস বেনাপোলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে ফরিদপুরের মধুখালীতে ডাকাতের কবলে পড়ে। ডাকাতেরা নেমে যাওয়ার পর চালক আয়নাল হোসেন বাসটি নিয়ে থানায় হাজির হন। এ সময় তিনি ডাকাতির বিষয়টি উল্লেখ করে মামলার নেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু মুধখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ১৯ মে ফরিদপুরের এসপির নির্দেশে চালককে সকাল পর্যন্ত বসিয়ে রাখেন।এরপর চালক আয়নাল, হেলপার অপু ও চেকার রবিউলকে ডাকাতির মামলায় আসামি করে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রতিবাদে খুলনা ও বরিশাল রুটে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তারপরও চালক, হেলাপার ও চেকারকে মুক্তি না দেওয়ায় ২২ মে থেকে পরিবহনের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৮ রুটে ভাড়ায় চালিত সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়। ২৪ মে পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন।এদিকে, অব্যাহত পরিবহন ধর্মঘটে নাকাল সাধারণ মানুষ। দূরপাল্লার যাত্রায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। ধর্মঘটের ফলে ভিড় বেড়েছে ট্রেনে। তবে ট্রেনের ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আসন বিহীন টিকেটে বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করছেন। ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে যেন তিল ধরানোর ঠাঁই নেই।মিলন রহমান/এআরএ/আরআইপি