টাঙ্গাইলে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ গত ঘণ্টায় স্লুইসগেট পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে যমুনা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। বন্যার্তদের জন্য ১০০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ছয়টি উপজেলায় বন্যা হয়েছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে, টাঙ্গাইল সদর, গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, দেলদুয়ার ও মির্জাপুর। এর মধ্যে কালিহাতী উপজেলায় গোহালিয়াবাড়ী, সল্লা ও দশকিয়া এ তিনটি ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৩৬টি পরিবার।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ী, সল্লা ও দশকিয়া এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। অপরদিকে কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদরের সীমান্তবর্তী এলাকায় চরপৌলীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, তাঁতঘর, শত বছরের পুরানো বাজারসহ দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া পাঁচ শতাধিক তাঁতঘরসহ সাত শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙনের মুখে রয়েছে।
এ দিকে যমুনার পানি কমতে শুরু করায় যমুনাসহ শাখা নদী পুংলী, এলেংজানী, ঝিনাই, ধলেশ্বরী, লৌহজং নদীর পানি কমে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ড. কবির হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, যমুনা নদীর নিকটবর্তী এলাকায় প্রতিনিয়ত বেশ কিছু ড্রেজিং মেশিন দ্বারা বালু উত্তোলন করায় স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাড়িঘরগুলো বেশি ভাঙনের সম্মুখীন হয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনায় পানি কমতে থাকায় কোনো কোনো স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হাতে না পাওয়ায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউএনওদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পেলে খুব দ্রুতই ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/এমএস