বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক বাদশা আলমগীরের বিরুদ্ধে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের কাজ না করে ৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।
তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলতাব আলীর কাছ থেকে এসব প্রকল্প বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আলমগীরের বিরুদ্ধে মাঝিড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা তারেক হোসেন সুমন গত ১৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন।
বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে তদন্ত করতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) নির্দেশ দেন।
মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য তারেক হোসেন সুমন জানান, যুবলীগ নেতা বাদশা আলমগীর স্থানীয় এমপির কাছে তিন-চারটি প্রকল্প বাগিয়ে নেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের টিআর ও নগদ অর্থের এই কাজগুলোতে বিভিন্ন সংস্কার এবং সোলার প্যানেলের কাজ ছিল।
আলমগীর দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক (১ম পর্যায়ের) প্রকল্প তালিকায় মাঝিড়া ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্পের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, ভুয়া রেজুলেশন, ভুয়া সভাপতি ও সেক্রেটারির নামে সিলমোহর এবং স্বাক্ষর দেন। এভাবে বেশ কয়েক লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন।
সুমন আরও জানান, সাজাপুর পূর্ব ও দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের নামে প্রকল্প দেখান আলমগীর। কিন্তু তিনি এখানে কোনো কাজ না করেই এবং ঈদগাহ মাঠে সামান্য মাটি ফেলেন। মসজিদ কমিটিকে মাত্র ৭ হাজার টাকা দিয়ে তিনি এখান থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরবর্তী সময়ে গ্রামবাসীদের কাছে ক্ষমা চান আলমগীর।
এছাড়া তিনি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নিয়ে যেসব বাড়িতে সোলার প্যানেল দিয়েছেন সেসব বাড়িতে আগে থেকেই পল্লীবিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে। এসব বাড়ি তার আত্মীয়-স্বজনের।
পাশাপাশি ইউনিয়নের কাজ হলেও পৌর এলাকার ফুলদীঘির একটি বাড়িতে সোলার প্যানেল দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে যুবলীগ নেতা বাদশা আলমগীর এসব প্রকল্প থেকে অন্তত ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
তবে অভিযুক্ত উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করে বলেন, মাঝিড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন আমার প্রতিপক্ষ সব প্রকল্পে শতভাগ কাজ করা হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লিমন বাসার/এএম/আরআইপি