আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে আকলিমা (৫০) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে হত্যা করেছে মানসিক বিকারগ্রস্ত এক যুবক। বুধবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর ভানুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহকর্ত্রী ওই এলাকার আলাউদ্দিনের (৬০) স্ত্রী। এ ঘটনায় স্থানীয়রা মোকাররম (২৫) কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।নিহতের মেয়ে লিপি আক্তার জানান, বুধবার সকালে তার বাবা আলাউদ্দিন বাড়ির পাশে দা নিয়ে বাঁশের খুঁটি বানাচ্ছিলেন। তিনি দাটি ওই স্থানে রেখে বাড়িতে আসেন। তখন তার পাশেই বসে ছিলেন ছোট ছেলে সফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাবেয়ার ভাতিজা মুকাররম। তিনি তিনদিন আগে তার ফুফু রাবেয়ার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এক পর্যায়ে আলাউদ্দিন বাড়ি থেকে ফিরে গিয়ে মোকাররমের কাছে দাটি চাইলে মোকাররম কোনো কিছু না বলেই ‘আল্লাহু আকবর’ বলে আলাউদ্দিনের ঘাড়ে কোপ দেয়। এসময় আলাউদ্দিন জখম হয়ে চিৎকার দিয়ে দৌঁড়ে পালাতে থাকেন। চিৎকার শুনে তার স্ত্রী আকলিমা, পুত্রবধূ ও বাড়ির অন্যরা ছুটে আসেন। এক পর্যায়ে মোকাররমের হাত থেকে দাটি কেড়ে নিতে গেলে মোকাররম ওই দা দিয়ে গৃহকর্ত্রী আকলিমা বেগমের ঘাড়, মাথা ও বুকে কয়েকটি কোপ দেয়। এতে আকলিমা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে মোকাররম ওই দা দিয়ে অন্যদের কোপাতে গেলে স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।গুরুতর আহত অবস্থায় নিহতের স্বামী আলাউদ্দিনকে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। তিনি গাজীপুরে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কলেজের এমএলএসএস পদে চাকরি করেন।মুকাররমের বড় ভাই মোশাররফ জানান, তার ভাই মোকাররম মাঝে মধ্যেই পাগল হয়ে যায়। সে ১৬ পারা কোরআনের হাফেজ। গত এক বছর আগে তাকে মাঝে মধ্যেই হাতে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো।এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, পুলিশ খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আসামিকে এলাকার লোকজন ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। মো. আমিনুল ইসলাম/এসএস/এমএস