দেশজুড়ে

বালু উত্তোলনে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা

পদ্মা নদীর পাকশী, লক্ষ্মীকুণ্ডা, সাঁড়া ইউনিয়ন এলাকায় যেমন খুশি তেমনভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। সরকারি অনুমোদন বা ইজারা গ্রহণের ধার ধারছে না বালু উত্তোলনকারীরা। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার বালু তোলা হচ্ছে এসব জায়গা থেকে। এই বালু তুলতে রীতিমতো ড্রেজার ব্যবহার করা হচ্ছে।বড় ধরনের এই অপকর্মে সরকার দলীয় লোকজন সরাসরি জড়িত রয়েছে। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো শঙ্কা রয়েছে এই বালু ঘাটের অদূরে নদীতীরে নির্মিত হচ্ছে দেশের একমাত্র পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর কোনো ক্ষতি হয় কিনা তাও ভেবে দেখার বিষয়।যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে সাঁড়া ইউনিয়ন এলাকায় বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছেন বহু মানুষ। অনেকে বাড়ি-ঘর হারিয়ে পুরাতন রেললাইনের উপর, আশপাশের বিভিন্ন খাস জায়গায় ছাপড়া তুলে বসবাস করছেন। কিন্তু তবুও প্রশাসনের নজর পড়ছে না এসব বালু উত্তোলনকারীদের উপর। কোনো পদক্ষেপ গ্রহণতো দূরের কথা গোপন আঁতাতের মাধ্যমে হাজার হাজার ঘনফুট বালু কেটে ট্রাক বোঝাই করে প্রতিদিন বিক্রি করা হচ্ছে।এক হিসেবে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার বালু এভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বালু উত্তোলনের জন্য সরকারিভাবে কোন ইজারা প্রদান করা নেই।এ ব্যাপারে পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাবু মণ্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, মাসুম নামে একজনের অনুকূলে ইজারা আছে। রূপপুর এলাকায় কিছু মোটা বালু উত্তোলন হচ্ছে।ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম সেলিমের কাছে বালু মহাল ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এই বালু মহাল নিয়ে একাধিক মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে। সর্বশেষ অবস্থা কী তার খোঁজ নিচ্ছি। অনুরূপ কথা বলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি)।উপজেলা প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অফিস সহকারি জাগো নিউজকে জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ এই বালু মহালের কোন ইজারা নেই। বালু ঘাটের ম্যানেজার আলমকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি নেতাদের লোক হিসেবে কাজ করি।পাওয়ার অব এটর্নি প্রাপ্ত তরিকুল ইসলাম রঞ্জু জাগো নিউজকে জানান, সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ২৭২৭/২০১০ নং রিট পিটিশন মোকদ্দমায় আদেশ অনুসারে আনোয়ারুল হক মাসুম, এনএস রোড, আমলাপাড়া-কুষ্টিয়ার পক্ষে তাকে বালু উত্তোলনের জন্য স্থান চিহ্নিত করে বুঝিয়ে দেয়ার নিমিত্তে আবেদন করেন। একই বিষয়ে আবেদন করেন মেসার্স বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স জিয়া এন্টারপ্রাইজ, রূপপুর-ঈশ্বরদী ও মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজ, রেল বাজার-ভেড়ামারা কুষ্টিয়া পৃথক আবেদনে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট মোকদ্দমা নং ৯১১/২০১০, ৯১২/২০১০, ১৫৯০/২০০৯, ১৭৫১/২০১০ এর আদেশ বলে পাবনা-কুষ্টিয়া জেলার পদ্মা নদীর অভ্যন্তরে ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া, বামনগাঁও ও পূর্ব বাহিরচর মৌজার বালি/মাটি উত্তোলনের দখল বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আবেদন করলে ২৩/০৯/২০১২ তারিখে স্থান চিহ্নিত করে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দেয়া হয়।সেই অনুযায়ী ঈশ্বরদীর পূর্ব বাহিরচর, চররূপপুর, পাকশী, সাঁড়া, বামনগাঁও, চরনিস্কিলপুর, চরমাদিয়া, চররানাখরিয়া ও চরতালবাড়িয়া মৌজার বালু/মাটি উত্তোলনের জন্য প্রতি ঘনফুট ২৫ পয়সা হারে রয়ালিটি বাবদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ভ্যাট বাবদ ১ লাখ ১২ হাজার ৫শ টাকা, ৫% আয়কর বাবদ ৩৭ হাজার ৫শ টাকা মিলিয়ে ৯ লাখ টাকা পেঅর্ডারের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এ যাবৎ কত ঘনফুট বালু উত্তোলন হলো তা দেখার কেউ নেই। ইচ্ছেমত অব্যাহত গতিতে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভবিষ্যতে ভয়াবহ ভাঙন হতে পারে এবং জনপদ নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে।অপরদিকে, ভেড়ামারা অঞ্চলে একই কায়দায় অবাধে বালু উত্তোলন হচ্ছে আবু সাঈদ খানের নামে দশ বছর আগের একটি কাগজের মাধ্যমে।আলাউদ্দিন আহমেদ/এমজেড/আরআই