দেশজুড়ে

মায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

মায়ের অপূর্ণতা এখনও তাড়া করে বেড়ায় দুই ভাইকে। এক বছর কেটে গেলেও বুকের ক্ষতটা এখনও কাটেনি তাদের। এরই মাঝে হাসি ফুটেছে ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের পরিবারে। মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে যেন অথৈ জলে ভাসছিলেন ঝর্ণার স্বামী ও দুই ছেলে। এরই মধ্যে আসে খুশির খবর। পাথর চাপা বুকে আশার আলো এনে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় ঘরের ভেতর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের বড় ছেলে বাসুদেব ভৌমিকের হাতে চাকরি নামের সোনার হরিণ তুলে দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে বাসুদেবের হাতে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সহকারী অফিসার পদে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। বাবা গৌরাঙ্গ ভৌমিক ও ছোট ভাই শুভ দেব ভৌমিককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন বাসুদেব।

এ সময় কিশোরগঞ্জ সদর আসনের এমপি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিয়োগপত্র দেয়ায় আনন্দে আত্মহারা বাসুদেব। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। মায়ের মৃত্যুর পর চোখে অন্ধকার দেখছিলেন বাসুদেব। আপাতত একটা স্থায়ী চাকরি হওয়ায় আশার আলো দেখছেন তিনি। ছোট ভাইকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করা এবং ভবিষ্যতে মায়ের স্মৃতি রক্ষায় কিছু একটা করার পরিকল্পনা আছে বাসুদেবের। রোববার সন্ধ্যায় জাগো নিউজের সঙ্গে কথপোকথনে এসব কথা জানান বাসুদেব ভৌমিক।

তিনি বলেন, মায়ের শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। প্রতিনিয়ত মায়ের কথা মনে পড়ে। তবে হঠাৎ মায়ের মৃত্যুতে আমাদের পরিবারে কান্না থামছিল না। আমার আর ছোট ভাই শুভ দেবের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় ছিলাম। এ অবস্থায় মমতাময়ী মায়ের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিরদিন ঋণী হয়ে থাকব।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের পাশে চর শোলাকিয়া মুফতি মুহাম্মদ আলী জামে মসজিদের সামনে গত বছর ঈদুল ফিতরের দিন সকালে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ছাড়াও গুলিতে নিহত হন ওই এলাকার গৃহবধূ ঝর্ণা ভৌমিক।

ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের স্বামী গৌরাঙ্গ ভৌমিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে রেখেছেন। এ জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা অনেক খুশি হয়েছি। দুই ছেলের জন্য সবার কাছে শুভ আর্শীবাদ কামনা করছি।

নূর মোহাম্মদ/এমএএস/জেআইএম