‘একদিন মনা যাইতে হবে সব ছাড়ি, সাড়ে তিন হাত মাটির ভেতর ঘর বাড়ি’। এই মাটির ভেতর ঘরবাড়ি তৈরির কারিগর যারা তারা ‘কবর তৈরির কারিগর’। তেমন এক কবর তৈরির কারিগরের নাম ওহিদুল ইসলাম। ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া এলাকায় তার বাসা।
ঠাকুরগাঁও শহরে কেউ না ফেরার দেশে গেলেই কবর খোঁড়ার জন্য ডাক পড়ে ওহিদুল ইসলামের। গত ৩০ বছরে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়েছেন তিনি। কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস আজ কবর তৈরির কারিগর ওহিদুলকে কবর খুঁড়তে হলো ছেলের জন্য। এর থেকে করুণ ঘটনা আর কি হতে পারে?
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ওহিদুল ইসলামের ছেলে তন্ময় তানজিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজ রুমে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
ছেলের অকাল মৃত্যুর পরও ওহিদুল ইসলাম নিজ হাতে ছেলের কবর খোঁড়ার কোদালসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে গোরস্থানে যান, যা দেখে সাধারণ মানুষ হতবাক হয়েছেন।
গোয়ালপাড়া এলাকার মহসিন আলী জানান, বাবার আগে সন্তানের মৃত্যু যে কত করুণ তা শুধু একজন বাবাই জানেন। কিন্তু শত কষ্টের মধ্যে একজন বাবা তার ছেলের মরদেহের জন্য কবর খুঁড়েছেন, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে। আর কোনো বাবাকে যেন ছেলের কবর খুঁড়তে না হয় এই পৃথিবীতে।
তানজিমের বাবা ওহিদুল ইসলাম জানান, নিজ ছেলের কবর খুঁড়তে হবে যা কখনও ভাবিনি। ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েক হাজার মানুষের কবর খুঁড়ে মরদেহ দাফন করেছি। আজ আমাকে ছেলের কবর খুঁড়ে দাফন করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ২৯ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাস্টাস দিয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন প্রত্যাশা নামে এক তরুণী। ওই তরুণী তন্ময় তানজিমের পাতানো বোন ছিল। গত দুদিন বাসার রুম থেকে বের হওয়া ও খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল সে পাতানো বোনের মৃত্যুর শোকে। এই শোকেই মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তানজিম আবেগের কারণে শেষ পর্যন্ত ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার করেছেন।
তন্ময় তানজিমের এই অকাল মৃত্যু কোনো মতেই মেনে নিতে পারছেন না তার মা ও ছোট ভাই। বাবা ব্যবসার কাজে বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকত তাই দুই ভাই ও মা ছিল তাদের বন্ধু, বান্ধবী ও অভিভাবক, যা ফেসবুকে বিভিন্ন সময় তিনজনের একত্রিত ছবি দেখলেই বোঝা যায়।
রিপন/এমএএস/এমএস