জামালপুরে দুই বোনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ওয়ারেছ আলী (৪৮) নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। আটক ওয়ারেছ আলী নিহত দুই বোনের বাবা শামীমের চাচা।
বুধবার সকালে জামালপুর সদরের মেষ্টা ইউনিয়নের দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের নিজ বাড়ির শয়ন কক্ষ থেকে ভাবনা (১৫) ও রুবনা (১০) নামে দুই বোনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ভাবনা রহিমা কাজেম উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোটবোন লুবনা হাসিল মতিউর রহমান একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তাদের বাবা সামিউল ইসলাম শামীম মালয়েশিয়া প্রবাসী।
প্রতিবেশীরা জানায়, পারিবারিক প্রয়োজনে দুই মেয়েকে বাড়ি রেখে তাদের মা তাছলিমা বেগম মঙ্গলবার বিকেলে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা বটতলা এলাকায় বাবার বাড়ি গিয়েছিল। রাতে দুই বোন ছাড়া বাড়িতে আর কেউ ছিল না। বুধবার সকাল ৮টার দিকে তাছলিমা বাড়িতে আসলে নিজ ঘরে দুই বোনের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে।
এ সময় প্রতিবেশীরা খবর দিলে পুলিশ এবং র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের বাড়ি ঘিরে রাখে। পরে ময়মনসিংহ জোনের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং সিআইডি ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত দুই বোনের সুরতহাল ও হত্যার নমুনা সংগ্রহ করে।
সুরতহাল ও নমুনা সংগ্রহ শেষে বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পিবিআই ময়মনসিংহ জোনের অ্যাডিশনাল পুলিশ সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটনা হয়েছে এবং দুই বোনকে একইভাবে গলাকেটে হত্যা করা হয়।
বুধবার বিকেলে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, যারাই নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব। পুলিশ, র্যাব, পিবিআইসহ তদন্তকারী সংস্থার সমন্বয়ে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হবে।
শুভ্র মেহেদী/এএম/জেআইএম