দেশজুড়ে

গাজীপুরে সাবেক এমপির ছেলে খুন, প্রধান আসামি গ্রেফতার

গাজীপুরের কালীগঞ্জে প্রয়াত এমপির ছেলে হাবিবুর রহমান ফয়সাল হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি তৌহিদুল ইসলাম রিমনকে (২৭) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

রিমনের দেয়া তথ্যমতে ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার তৌহিদুল ইসলাম রিমন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভাদগাতী গ্রামে সাইদুল ইসলাম ওরফে মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।

রোববার দুপুরে র‌্যাব-১ এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ি স্পেশালাইড ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মঞ্জুর মেহেদী ইসলাম বক্তব্য রাখেন। এসময় পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর মেজর মঞ্জুর মেহেদী ইসলাম জানান, গত ৩০ জুলাই রাত ১০টার দিকে কালীগঞ্জের ভাদগাতী এলাকার প্রয়াত সংসদ সদস্য মোখলেসুর রহমান জিতুর ছেলে হাবিবুর রহমান ফয়সালকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত ফয়সালের বড় বোন মাসুমা সুলতানা মুক্তা বাদী হয়ে ১ আগস্ট কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই ধরাবাহিকতায় র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল শনিবার দুপুর ২টার দিকে কালীগঞ্জ থানার উত্তরগাঁও বাজার হতে ওই মামলার প্রধান আসামি মো. তৌহিদুল ইসলাম রিমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যমতে একই এলাকার আলমগীরের দোকানে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলসহ একটি ম্যাগজিন, ২ রাউন্ড তাজা গুলি, ২টি দেশীয় রামদা, দুইটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, আসামি রিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে। রিমন এবং একই এলাকার মো. হুমায়ুন দীর্ঘদিন ধরে অত্র এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত। হুমায়ুনের ভাতিজির সঙ্গে নিহত হাবিবুর রহমান ফয়সালের সখ্যতাকে কেন্দ্র করে আসামি রিমন ও তার সঙ্গীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করার অভিপ্রায় পোষণ করে। গত ৩০ জুলাই রাতে রিমন তার সহযোগী স্থানীয় হুমায়ুন এবং নওশাদকে নিয়ে ভাদগাতী এলাকায় একটি দোকানে অবস্থানরত ফয়সালকে নিজ হাতে গুলি করে পালিয়ে যায়।

পরে রিমন প্রথমে নরসিংদীর পলাশ এলাকার এক বন্ধুর বাড়িতে এবং পরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি এলাকায় আত্মগোপন করে। সর্বশেষ সে কালীগঞ্জের উত্তরগাঁও আলমগীরের দোকানে অবস্থানকালে সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামি মো. নওসাদ (২৫) ইতোপূর্বে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। রিমনের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রয়াত মোখলেছুর রহমান জিতুু মিয়া ১৯৭৩ সালে কালীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে তার বিপুল জনপ্রিয়তায় ১৯৭৯ সালে গাজীপুর সাবেক ৩ ও বর্তমান ৫ সংসদীয় কালীগঞ্জ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বার ১৯৮৮ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন এবং সেবারও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আমিনুল ইসলাম/এমএএস/আরআইপি