দেশজুড়ে

জঙ্গি অর্থায়ন : মোস্তাককে ১০ দিনের রিমান্ডে চায় সিআইডি

জঙ্গি তৎপরতা ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার মোস্তাক আহমেদ খাঁর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে অর্গানাইজড ক্রাইম স্পেশাল টাস্ক গ্রুপ।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোলায়মানের আদালতে তাকে সোপর্দ করে এ আবেদন জানানো হয়। তবে মঙ্গলবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি।

গ্রেফতার মোস্তাক আহমদ খাঁ (৩৫) বানিয়াচং উপজেলার তকবাজখানী মহল্লার মনোয়ার আহমেদ খাঁর ছেলে। এর আগে সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করে অর্গানাইজড ক্রাইম স্পেশাল টাস্ক গ্রুপের সদস্যরা। এ ব্যাপারে অর্গানাইজড ক্রাইম স্পেশাল টাস্ক গ্রুপ সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক সফি আহমেদ বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১০-১১ বছর আগে গ্রেফতার মোস্তাক অবৈধভাবে তুরস্ক যান। সেখানে ৫/৬ বছর অবস্থান করেন। তখন তিনি জঙ্গি সংগঠন ও ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেন।

দেশে ফেরার পর তিনি জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। ইসলামী ব্যাংক হবিগঞ্জ শাখায় তার নামীয় হিসাবে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ৯২ লাখ ৭২ হাজার টাকা জমা হয় এবং ৯২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা উত্তোলন হয়। ওই হিসাবে গত দুই বছরে ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বিদেশি রেমিটেন্স জমা হয়।

পাশাপাশি চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল অংকের টাকা জমা হয়। মোস্তাকের মালিকানাধীন এমকে এন্টারপ্রাইজের নামে একই ব্যাংক শাখায় অপর একটি হিসাবে ১১ জুন ২০১৪ থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা এবং ১৯ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন হয়।

ওই অর্থের সঠিক উৎস ও ব্যয়ের সঠিক কোনো তথ্য কেউ দিতে পারেনি। ওই হিসাবগুলো থেকে পাঁচটি অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।

এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক বানিয়াচং শাখায় মোস্তাকের সহযোগী কাউছার মিয়া ও তার শাশুড়ি হামিদা খাতুনের নামীয় সঞ্চয়ী হিসাবে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অর্থ সহায়তা করছেন।

এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ মানিলন্ডারিং আইনে হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এএম/আরআইপি