পার্বত্য খাগড়াছড়ির দিঘীনালায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের পর প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও জনবল সঙ্কটে কার্যক্রম চালু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। অবকাঠামো তৈরি ও যন্ত্রাংশ স্থাপনের পর চলতি বছরের জুলাই মাসে পুরোদমে কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাজ শুরু করতে পারছে না এটি।
এদিকে বর্তমানে নিয়োগ পাওয়া চার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় আট লাখ টাকা। তিনবছরে বেতন বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ২৪ লাখ টাকা ব্যয় হলেও তা কোনো কাজে আসেনি বলে জানা গেছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০১৪ সালে দীঘিনালার পোমাংপাড়া এলাকায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করে আবহাওয়া অধিদফতর। অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষে ২০১৪ সালে বিদেশ থেকে আনা পর্যবেক্ষণাগারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও স্থাপন করা হয়।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আবহাওয়া বার্তা কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরে প্রেরণ করা ছাড়াও পাহাড়ে আবহাওয়া উপযোগী চাষাবাদের গবেষণা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মাধ্যমে দুর্যোগ সতর্কীকরণ করা হবে এ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে সমতল এলাকার সঙ্গে পাহাড়ের ভিন্নতার বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করা হবে এখানে। এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে একজন প্রথম শ্রেণির আবহাওয়াবিদের নেতৃত্বে ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করার কথা থাকলেও বর্তমানে একজন পর্যবেক্ষক ও একজন বেলুন মেকারসহ (রির্পোট সংগ্রহকারী) চারজন কর্মরত আছেন জানিয়ে ২০১৪ সালে এখানে যোগদান করা পর্যবেক্ষক কর্মকর্তা ধর্মজ্যোতি চাকমা বলেন, আমাদের চারজনের পক্ষে আবহাওয়া ভবনটির কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
দীঘিনালায় পর্যবেক্ষণাগার স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শামীম হাসান ভূঁইয়া জাগো নিউজকে জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরুর সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জনবল নিয়োগ হলেই এটি পুর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে।
এ আবহাওয়া কেন্দ্র থেকে শুধু দীঘিনালা নয় সারাদেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসও জানা যাবে এমন তথ্য দিয়ে শামীম হাসান ভূঁইয়া জানান, মংলা আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাসের সঙ্গে দীঘিনালা কেন্দ্রের পূর্বাভাস মেলানোর পর অনেকটা নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে আগাম সতর্ক বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এফএ/আইআই