দেশজুড়ে

ট্রলার হুমকিতে নবনির্মিত ব্রিজ

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত ত্রিমোহন বংশাই নদীর ওপর আলহাজ মো. একাব্বর হোসেন সেতুটি এখন হুমকির মুখে। প্রতিদিন বংশাই নদী দিয়ে চলাচলকারী বালু ভর্তি ট্রলার সেতুটির পিলারে আঘাত করায় এটি হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে বালুভর্তি তিনটি ট্রলারের ধাক্কায় সেতুর কয়েকটি পিলারে ফাটল ধরে রড বেরিয়ে গেছে এবং দুইটি ট্রলার ডুবে গেছে বলে স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্র জানিয়েছে। মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত প্রকল্প হিসেবে মির্জাপুর পাথরঘাটা রাস্তার ত্রিমোহন এলাকায় বংশাই নদীতে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩শ মিটার দৈর্ঘ্য গাডার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত বছর ৪ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন সেতুটি উদ্বোধন করেন।

কিন্তু গত বছরই বর্ষায় বংশাই নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলে ট্রলারে নেয়ার সময় কয়েকটি ট্রলার সেতুর পিলারে আঘাত করে। এতে কয়েকটি পিলারের কংক্রিট খুলে যায়। একইভাবে এবারও বর্ষায় বালু লুটেরারা বংশাই নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে বিশাল ট্রলার দিয়ে বালু লুট করে নিচ্ছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০টি ট্রলার ত্রিমোহন বংশাই ব্রিজের নিচ দিয়ে ভাটির দিকে যাচ্ছে এবং প্রতিদিনই ব্রিজের পিলারে ট্রলার আঘাত করছে।

গত কয়েকদিন আগে ব্রিজের পিলারে আঘাত লেগে বালুভর্তি দুইটি ট্রলার ব্রিজের নিচে ডুবে গেছে। একইভাবে বৃহস্পতিবার বিকেলে বালুভর্তি একটি ট্রলার ব্রিজের পিলারে সজোরে আঘাত করলে পিলারের কংক্রিট খুলে রড বেরিয়ে যায় এবং ট্রলারটি আটকা পড়ে। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেও বালু লুটেরাদের ট্রলার চলাচল থামাতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মির্জাপুর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ রেজা বলেন, আলহাজ মো. একাব্বর হোসেন সেতুটি এখন ট্রলারের হুমকিতে পড়েছে। ব্রিজটিতে স্পান বিয়ারিং প্যাডের উপর গাডার ও স্ল্যাব বসানো। ট্রলারের ধাক্কায় ইতোমধ্যে কংক্রিট খুলে রড বেরিয়ে গেছে। আঘাতের চাপ বেশি হলে বা গাডারে লেগে গেলে যে কোনো সময় গাডার ও স্ল্যাপ ভেঙে নিচে পড়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে মির্জাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হবে বলে তিনি জানান।

এস এম এরশাদ/এফএ/এমএস