বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুগারবিট থেকে চিনি উৎপাদন করা হয়। তাই দেশের চিনিকল রক্ষা ও সংকট মোকাবিলায় আখের বিকল্প সুগারবিট চাষ এবং গুড় উৎপাদনে ৩ বছরের পাইলট প্রকল্পে সফল হয়েছে ঠাকুরগাঁও আঞ্চলিক ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র। সুগারবিট প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে চাষের পাশাপাশি আগামী ২০১৭-১৮ সালের মাড়াই মৌসুমে ঠাকুরগাঁও চিনিকল এ বিট থেকে চিনি উৎপাদন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মিল কর্তৃপক্ষ।২০১১-১২ অর্থবছরে ঠাকুরগাঁও আঞ্চলিক ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রে আখের বিকল্প হিসেবে সুগারবিট চাষ ও চিনি উৎপাদনের গবেষণা শুরু হয়। ৩ বছরের পাইলট প্রকল্পের মেয়াদ শেষে চুড়ান্তভাবে সফলতা পেয়েছেন বলে দাবি গবেষকদের। আখে যেখানে চিনি থাকে ৭/৮ শতাংশ সেখানে সুগারবিটে চিনির পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে এই সুগারবিট থেকে গুড় তৈরি করে প্রান্তিক চাষিদের প্রদর্শনী ও চাষাবাদের কলাকৌশল নিয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মাত্র ৫ থেকে ৬ মাসেই সুগারবিট উৎপাদন করে মিলে সরবরাহ করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন কৃষকরা। এতে দেশের চিনিকল আখ সংকটে বন্ধের হাত থেকে রক্ষা পাবে পাশাপাশি চিনি ঘাটতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এদিকে সুগারবিট চাষাবাদেও কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।আখচাষি রোশেদ জামান জানান, সুগারবিট চাষের কলাকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেয়েছি। সুগার বিটের সাথে অন্যান্য ফসল চাষ করা যায়। এছাড়াও আখের সাথে সুগারবিটও চাষ করা যায়। সদর উপজেলার রহিমানপুরের আখচাষি মনসুর আলী জানান, মিলে আখ দেওয়ার পর টাকা নিতে ঘুরতে হয় অনেক দিন। সুগারবিট সরবরাহের পর তেমনই হলে চাষিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।আকচা গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, সুগারবিট চাষে অল্প সময় লাগে। এ এলাকার অনেক কৃষকের মধ্যে আখের বদলে সুগারবিট চাষ করার আগ্রহ দেখা গেছে। জেলা আখচাষি সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন জানান, সুগারবিট চাষ করে এলাকার চাষিরা অল্প সময়ে প্রচুর টাকা আয় করতে পারবে। ইতোমধ্যে কয়েকশ কৃষক প্রশিক্ষণ নিয়েছে।ঠাকুরগাঁও আঞ্চলিক ইক্ষু গবেষণাকেন্দ্রের গবেষক মামুনুর রশিদ জানান, বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলায় শীত দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। এ এলাকা সুগারবিট চাষের উপযোগী। ইতিমধ্যে পরীক্ষাগারে আমরা সুগারবিট চাষ ও গুড় উৎপাদনে সফল হয়েছি। সুগারবিট সম্ভাবনাময় ফসল। এটি চাষের মাধ্যমে দেশের চিনি ঘাটতি মোকাবেলা করা সম্ভব।ঠাকুরগাঁও আঞ্চলিক ইক্ষু গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.জাহাঙ্গীর আলম জানান, দেশের চিনির ঘাটতি পূরণ ও আখ সংকট মোকাবিলায় সুগারবিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইতিমধ্যে তিন বছরের পাইলট প্রকল্পে সুপারবিট চাষ ও গবেষণায় আমরা সফল হয়েছি। এ দেশে সুগারবিট উৎপাদন সম্ভব। সুগারবিট সম্ভাবনাময় ফসল। এটি চাষের মাধ্যমে দেশের চিনি ঘাটতি মোকাবিলা সম্ভব।সুগার বিট থেকে চিনি উৎপাদনে দেশের চিনিকলগুলোর মধ্যে একমাত্র ঠাকুরগাঁও সুগার মিলকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এনে সরকার ১শ ১৯ কেটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ঠাকুরগাঁও চিনিকল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড়, দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ ও রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিল এলাকায় চাষ করা হবে সুগারবিট। আগামী ২০১৭-১৮ সালের মাড়াই মৌসুমে ঠাকুরগাঁও সুগার মিল সুপারবিট সংগ্রহ করে আখের পাশাপাশি চিনি উৎপাদন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মিল কর্তৃপক্ষ।ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ব্যবস্থপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ জানান, সুগারবিট উৎপাদনের সম্ভাবনা কাজ যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। সুগারবিট থেকে চিনি উৎপাদনের প্রকল্পের ডিরেক্টর ও কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপন করা হলে ২০১৭-১৮ সালের মাড়াই মৌসুমে সুগার বিট থেকে চিনি উৎপাদন করা সম্ভব হবে।এসএস/এমএস