বগুড়ায় পানি কমতে শুরু করলেও বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বানভাসি মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্য সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ২৭ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি কমলেও লোকালয় থেকে পানি নামা শুরু করেনি। ফলে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া বানভাসি মানুষের ঘরে ফেরা শুরু হতে এখনও সময় লাগবে।
এদিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর বাঁধ ভেঙে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দুটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
ওই পানির তোড়ে করতোয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টের ফসলি জমিও তলিয়ে গেছে। এই উপজেলার দেউলী ও ময়দানহাটা ইউনিয়নের অন্তত ১২টি গ্রাম করতোয়ার বাঁধভাঙা পানিতে তলিয়ে গেছে।
ইতোমধ্যে ময়দানহাটা ইউনিয়নের দাড়িদহ মাদরাসা ও দাড়িদহ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ২ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। দাড়িদহ-ফাঁসিতলা পাকা সড়কটিও ওই পানিতে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা মাছুদ আহমেদ জানান, বাঁধভাঙা পানিতে বন্যায় দুই হাজার হেক্টর জমির রোপা আমনসহ অন্যান্য ফসল এবং দুইশ হেক্টর জমির মরিচ, পোটল, বেগুন, আদা, হলুদ, বরবটি, কালাই, করলা, পেঁপে নষ্ট হয়েছে।
পাশাপাশি দেউলী ইউনিয়নের মধুপুর পাতাললিয়া, রহবল, তালিবপুর, বোয়ালমারিসহ কয়েকটি গ্রামের কাঁচা সড়ক ডুবে যাবার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম মোহাম্মাদ শাহ নেওয়াজ বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যার্তদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে, সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল গ্রোয়েন বাঁধে বিভিন্ন চরের বানভাসি প্রায় ১৫০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অধিকাংশই দিনমজুর। তাদের ঠিকমত খাবার জুটছে না।
সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য এফাজ উদ্দিন বলেন, এই এলাকায় সরকারি কোনো ত্রাণ আসেনি। তাই বানভাসি মানুষরা কষ্টে আছেন।
যমুনা নদীতে পানি কমলেও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফসলের খেত পানির নিচে থাকায় দুর্গতরা কাজে যেতে পারছেন না।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, যমুনায় পানি কমতে শুরু করায় বাঁধের ঝুঁকি অনেকটা কমে গেছে। তবে মানুষের কষ্ট এখনও কমেনি।
এএম/আরআইপি