দেশজুড়ে

৫০ লাখ মানুষকে ১০ টাকা কেজির চাল দেয়া হবে : শেখ হাসিনা

দেশের প্রতিটি মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সব কিছু করছে। এ সরকার আওয়ামী লীগের সরকার। এ সরকার জনগণের সরকার। এ সরকার আপনাদের সরকার। আমার বাবা (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) দেশের মানুষকে বেশি ভালোবাসতেন। তাই তিনি দেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছেন। আমি দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ও কল্যাণে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার বিকেলে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গা হাই স্কুল মাঠে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

তিনি চলতি বন্যায় নিহত শিশুসহ অন্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। সবাইকে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে। আগামী মাস থেকে দেশের ৫০ লাখ মানুষকে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল তিন মাস দেয়া হবে। দেশে যেন খাদ্য ঘার্তি না হয় সে জন্য চাল আমদানির উপর ২৮ ভাগ ট্যাক্স কমিয়ে ২ ভাগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫ লাখ টন খাদ্য আমদানি করা হয়েছে। কাজেই কোনো সংকট নেই। আমি ১৯৮১ সাল থেকে কুড়িগ্রামের প্রতিটি উপজেলায়, ইউনিয়নে ঘুরে বেরিছি। মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখেছি। তখন এ অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ, মঙ্গা লেগে থাকত। সরকারে না থেকেও তখন মানুষের পাশে ছিলাম। লঙ্গর খানা খুলেছি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে এ জেলার জন্য অনেক উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়েছি। যাতে করে গ্রামের মানুষটিও ভালো থাকতে পারে। অল্প সময়ে কুড়িগ্রামকে খাদ্য উদ্বৃত্ত করতে সক্ষম হই। এখন আর মঙ্গা নেই। আমরা মাঝে ক্ষমতায় ছিলাম না। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে দেখি আবারও দেশে ৪০ লাখ মে’টন খাদ্য ঘার্তি। আমাদের চেষ্টায় দেশ আবারও ৩০ লাখ মে.টন খাদ্য উদ্বৃত্ত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীরবিক্রম) এমপি, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম মোজাম্মেল। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিছুল হক, পরাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ মাহমুদ আলী, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানক এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, অ্যাডভোকেট সফুরা খাতুন এমপি, রুহুল আমিন এমপি, এ কে এম মোস্তাফিজার রহমান এমপি, সাবেক মন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, আবু নুর মো. আক্তারুজ্জামান প্রমুখ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।

শেখ হাসিনা এনজিওদের উদ্যেশে বলেন, যারা ঋণ দিয়েছেন, (কিস্তি আদায়ের ব্যাপারে) দয়া করে বন্যাকবলিত মানুষদের অত্যাচার ও জুলুম করবেন না। তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করেন আমার উপর আস্থা আছে? সবাই তার কথায় সাড়া দেয়। বলে আস্থা আছে। ‘আপনাদের ধৈয্য ধরতে হবে। আমাদের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। বিশ্বাস রাখতে হবে। বাংলার মানুষের জন্য আমি যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটা আগস্ট মাস। এ মাসে দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়। আমি ও আমার ছোট বোন (রেহানা) দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। জিয়া তখন একজন মেজর ছিল। জাতীর পিতা তাকে মেজর জেনারেল করে। কিন্তু তিনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন। এমনকি আমার ছোট বোন যেন দেশে আসতে না পারে এ জন্য তার পাসপোর্ট রিনু করতে দেয়নি।

তিনি বন্যায় কুড়িগ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা হয়েছে। আমি দিনাজপুরের বন্যাদুর্গত এলাকা দেখে এবং ত্রাণ বিতরণ করে আসলাম। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীন সড়ক, মহাসড়ক ও বাঁধের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেরামতের কাজ করা হবে। আপনারা যারা স্থানীয় তারা দেখে নেবেন কাজ যেন ঠিকমত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ধানের চারা বিতরণ করা হবে। চারার ব্যবস্থা আমরা করে রেখেছি। সার, বীজ সব দেয়া হবে। বন্যায় যাদের ঘর-বাড়ি নষ্ট হয়েছে তাদেরকে ঘর করে দেয়া হবে। ভূমিহীনদের স্থায়ীভাবে ঘর-বাড়ি করে দেয়া হবে।

নাজমুল/এমএএস/আরআইপি