অবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি মাহবুবুল হক ভূঁইয়াকে দেয়া এক মাসের বাধ্যতামূলক ছুটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিকেলে কুবির রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক পত্রে ছুটি প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক ও সভাপতি মাহবুবুল হক ভূঁইয়া কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়ার অভিযোগে কুবি ছাত্রলীগ ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
একই দাবিতে পরদিন থেকে টানা দুইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় ছাত্রলীগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষককে ২০ আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাধ্যতামূলক এক মাসের ছুটি প্রদান করে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কুবি শিক্ষক সমিতি।
তাৎক্ষণিকভাবে ছুটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ (আইনুল-জিয়া প্যানেল)। বৃহস্পতিবার রাতে এবং রোববার দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখা হয় ভিসি প্রফেসর ড. আলী আশরাফকে। এরই মধ্যে রোববার শিক্ষক মাহবুবুল হককে এক মাসের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
এদিকে সোমবার কুবি প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠকে ওই শিক্ষকের ছুটি প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কুবির রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার স্বক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক সমিতির দাবির প্রেক্ষিতে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষকের আদেশক্রমে গত ১৭ আগস্ট জারি করা মাহবুবুল হক ভূঁইয়াকে ২০ আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেয়া বাধ্যতামূলক ছুটি প্রত্যাহার করা হলো। এ বিষয়ে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলী আশরাফ বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই শিক্ষককে এক মাসের ছুটি দেয়া হয়েছিল, এটা কোনো শাস্তি ছিল না। তবুও শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে এক মাসের ছুটির আদেশটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
কামাল উদ্দিন/আরএআর/এমএস