দেশজুড়ে

নেত্রকোনায় ভেসে গেছে আড়াই হাজার পুকুরের মাছ

টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে ৩৮৫ হেক্টর জমির প্রায় আড়াই হাজার পুকুর ও ফিসারির মাছ। কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নেত্রকোনার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, বারহাট্টা ও সদর উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুর্গাপুর উপজেলার সাত ইউনিয়নই প্লাবিত হয়েছে। এখানে ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩৮৫ হেক্টর জমির ২২০১ টি পুকুর-ফিসারির মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এসব ফিসারিতে প্রায় ১৬৩ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। যার বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।

চলতি বন্যায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ৫৫৩ টি, কলমাকান্দায় ৪৫০ টি, বারহাট্টায় ৮২০টি পূর্বধলায় ২০০টি আটপাড়ায় ৩০টিসহ ২২০১ টি পুকুর-ফিসারির মাছ ভেসে গেছে। একদিকে আমনের ক্ষতি অন্যদিকে মাছ চাষের এ ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে উঠতে পারবেন না চাষিরা।

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ফকিরের বাজারের ফিসারির মালিক মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, চলতি বন্যায় প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা না করলে কোনোভাবেই এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

একই এলাকার কর্ণপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী জাগো নিউজকে জানান, বন্যায় পর সারাদেশে সরকার কৃষকদের সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি সরকার ফিসারি মালিকদের সুদমুক্ত ঋণ দিলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। নয়তো কোনো অবস্থায় এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না ফিসারি মালিকরা।

পূর্বধলা উপজেলার মেঘশিমুল গ্রামের আশরাফ জাগো নিউজকে বলেন, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ফিসারির মালিকদের ফিসারিতে বিনামূল্যে মাছের পোনা ছাড়ার ব্যবস্থা করলে চাষিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

নেত্রকোনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা করে পোনা মাছ ও মাছের খাবারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকার ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার ৩৭০ মেট্রিক টন পোনা মাছ ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষিদের দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। উপজেলা কর্মকর্তা ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষতি হওয়া চাষিদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

কামাল হোসাইন/এএম/আরআইপি