জুমার খুতবায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় মসজিদে ঢুকে শরীফুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ইমামকে কুপিয়ে জখম করেছে মাদকাসক্ত এক যুবক। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে শরীয়তপুর সদর পৌরসভার দক্ষিণ বালুচড়া গ্রামের দক্ষিণ বালুচড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভেতর এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোলায়মান সরদারকে (৩১) আটক করেছে পুলিশ। আটক সোলায়মান দক্ষিণ বালুচড়া গ্রামের হাচান সরদারের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ আগস্ট) দক্ষিণ বালুচড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা শরীফুল ইসলাম (৪৫) জুমার খুতবায় মাদকের বিরুদ্ধে ও সুন্নাতের পক্ষে বয়ান করছিলেন। তখন মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে আসে যুবক সোলায়মান সরদার। সোলাইমান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। খুতবায় মাদকের বিরুদ্ধে ও সুন্নাতের পক্ষের কথাগুলো শুনে সোলায়মান ইমামের প্রতি ক্ষুদ্ধ হন।
সেই সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার ইমাম শরীফুল ইসলাম ফজরের নামাজ পরে মসজিদে ঘুমাচ্ছিলেন। সকাল ৭টার দিকে সোলাইমান মসজিদে ঢুকে শরীফুল ইসলামকে ঘুম থেকে তুলে কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং মসজিদ থেকে চলে যেতে বলে। যেতে অস্বীকার করলে সোলাইমান বাড়ি থেকে চাইনিজ কুড়াল এনে শরীফুল ইসলামের মাথায় কোপ দেয়। পরে ওই মসজিদের মুসল্লি আব্বাস খাঁ শরীফুল ইসলামকে উদ্ধার করে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোল্যার বাড়িতে নিয়ে যান। আবুল কাশেম মোল্যা শরীফুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ইমাম শরীফুল ইসলাম বলেন, ফজরের নামাজ পরে মসজিদে ঘুমাচ্ছিলাম। সকাল ৭টার দিকে সোলাইমান আমাকে ঘুম থেকে জাগায়। পরে ‘খুতবায় এসব আলোচনা করছস কেন’- বলে আমার বাম গালে একটি ঘুষি মারে। আর বলে- ‘তুই আজ এই মসজিদের চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে যাবি’। আমি তাকে বলেছি মসজিদ কমিটি যদি যেতে বলে তাহলে চলে যাব। এটা বলার পর সোলাইমান আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপ দেয়।
দক্ষিণ বালুচড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোল্যা বলেন, তিন বছর যাবত শরীফুল ইসলাম এ মসজিদের ইমাম ও খতিব। কী কারণে সোলাইমান আমাদের ইমামের মাথায় কোপ দিল বুঝতে পারছি না।
পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মসজিদের ইমামের মাথায় কোপ দেয়ার ঘটনায় সোলায়মান সরদারকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ছগির হোসেন/আরএআর/জেআইএম