নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে (১৮) বিষজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওয়াজেদ আলী খোকনের স্ত্রী সেলিনা ওয়াজেদ মিনু বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনার পর অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের শনাক্তসহ গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, পিপি ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে বিষজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে খাইয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপর পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে প্রাপ্তি নারায়ণগঞ্জ চ্যাঞ্জেস স্কুলের ও লেভেলের ছাত্রী। তিনি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের পশ্চিম পাশে হাজী মঞ্জিলে তৌহিদুল ইসলামের কোচিং সেন্টার থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় বের হন। এরপর পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা টাই স্যুট পরিহিত ৫০ থেকে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিজেকে তার বাবার বন্ধু পরিচয় দেন।
পরে সাত খুনের বিষয়ে তার বাবা পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন ভালো কাজ করেছে- এই কথা বলে প্রাপ্তিকে মিষ্টি জাতীয় খাবার (সঙ্গে বিষ মেশানো ছিল) জোরপূর্বক খাওয়ানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে জোরপূর্বক কিছুটা খাওয়ানোর পর প্রাপ্তি দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে রাস্তায় থাকা প্রাইভেটকারে উঠে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি। প্রাপ্তিকে প্রথমে শহরের খানপুরে ৩শ শয্যা হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে রাতে তাকে বাসায় আনা হয়।
শাহাদাত হোসেন/আরএআর/আইআই