কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় আরও দুই শীর্ষ জঙ্গি বড় মিজান ও সোহেল মাহমুদকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মুর্শেদ জামান বৃহস্পতিবার আদালতে এ দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন।
কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ইকবাল মাহমুদ আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর আসমিদের উপস্থিতিতে এ মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
জানা গেছে, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার হাজারদিঘী গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে। অপর জঙ্গি মো. আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহমুদ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার সাদীপুর কাবুলিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। এ দুই শীর্ষ জঙ্গি বর্তমানে ঢাকার হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শোলাকিয়া হামলায় ৫ জঙ্গি অংশ নেয়। এ হামলায় অস্ত্র সরবরাহ করে মিজান ও সোহেল। তাই এ মামলার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়।
এর আগে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের পান্থাপাড়া গ্রামের মৃত হাকিম উদ্দিন আকন্দের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও একই জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঘাটা পশ্চিম রাঘবপুর গ্রামের মৃত মাওলানা উসমান গনি মন্ডলের ছেলে জাহাঙ্গির আলম ওরফে রাজীব গান্ধীকে (৩৫) শোলাকিয়া হামলায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন সকালে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে পুলিশের একটি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। হামলায় নিহত হয় পুলিশের দুই কনস্টেবল আনসারুল হক ও জহিরুল ইসলাম। হামলার পর পুলিশের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে নিহত হয় আবির রহমান নামে এক জঙ্গি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করা হয় শফিউল ইসলাম ওরফে ডন নামে অপর জঙ্গিকে।
এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় শোলাকিয়া এলাকার গৃহবধূ ঝর্ণা ভৌমিক। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয় জাহিদুল ইসলাম তানিম নামে স্থানীয় এক যুবককে। তানিম কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম মনিপুরী গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এ মামলার তিন আসামি রাজীব গান্ধী, আনোয়ার হোসেন ও তানিম কিশোরগঞ্জ কারাগারে আছে।
নূর মোহাম্মদ/আরএআর/আইআই