গত কয়েকদিন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি কমা অব্যাহত থাকায় প্লাবিত নিম্নাঞ্চলের পানি নামতে শুরু করেছে। কিন্তু পানি কমলেও দুর্ভোগ কমছে না বানভাসিদের।
গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার পানি কমে আজ শুক্রবার বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বসতবাড়িসহ আশপাশে বন্যার পানি ওঠায় জেলা সদরের বরাট ইউনিয়ন ও গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছেন অন্তরমোড় এলাকার উঁচু রাস্তায়। সেখানে প্রায় ১ থেকে ১৫০টি পরিবার তাদের পরিবার পরিজন ও গৃহপালিত পশু নিয়ে পাটকাঠি ও পলিথিন দিয়ে ছাপড়া বানিয়ে কোনো রকম আশ্রয় নিয়েছেন। একই ছাপড়ার মধ্যে গরু-ছাগল, রান্না ও থাকার স্থান এবং সেখানেই বসে তারা খাওয়া-দাওয়া করছেন।
অসহায় এসব মানুষ জানান, উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাবন করছেন তারা। একটু বৃষ্টিতে তাদের দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। বন্যার পানির কারণে তেমন কোনো কাজ-কর্ম না থাকায় ধার-দেনা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকে। সাহয্যে সহযোগিতার মধ্যে মাত্র একবার কেউ কেউ ১০ কেজি করে চাল বা ৫০০টাকা পেয়েছেন। নিজেরা খেয়ে না খেয়ে থাকলেও চারদিকের পানির কারণে পশুখাদ্য নিয়ে পড়েছেন চরম খাদ্য সংকটে। গাছের ডালপালা ভেঙে খাওয়ানো ছাড়া উপায় নেই।
এদিকে গত শুক্রবার গোয়ালন্দে রেললাইনে পানি ওঠায় গোয়ালন্দ বাজার স্টেশন থেকে দৌলতদিয়া ঘাট স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৫ উপজেলার ১৯ ইউনিয়নের ২১৮ গ্রামের ৪৩ হাজার ৩১০টি পরিবারের ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৪৬ জনের ১ হাজার ২৭০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পানি ওঠার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে বন্যার পানিতে জেলার ৩ হাজার ৫০৪ হেক্টর ফসলি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসা সেবা দিতে ৪৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং পানি না নামা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হবে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কৃষকদের আগামী তিন মাস পর্যন্ত এ ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের ফসলি জমির ক্ষতি হওয়ায় তাদেরকে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হবে।
রুবেলুর রহমান/এফএ/এমএস