দেশজুড়ে

ঝিনাইদহে পাটের বাম্পার ফলন

ঝিনাইদহে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। ৬ উপজেলা হরিণাকুন্ড, শৈলকূপা, মহেশপুর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও সদরে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত হওয়ায় নেই পাট পচানোর জায়গার কোনো অভাব। কিন্তু কৃষকের অভিযোগ, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বাম্পার ফলন দিলেও তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।

মহেশপুরের নাটিমা গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় সোনালী আঁশের খুব ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে মিলছে না ভালো দাম। বাজারে বর্তমানে ১৫০০-১৬০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে।

শৈলকূপার আবাইপুর গ্রামের কৃষক লাল মিয়া জানান, কৃষক তো ছাড় দিতে দিতে শেষ হয়ে গেল। একদিকে বাজারে সব জিনিসের দাম আকাশচুম্বী, অন্যদিকে আমাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম নেই। আমরা কীভাবে বাঁচবো?

সদরের চুটলিয়া গ্রামের মানিক বিশ্বাস জানান, একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে আর অন্যদিকে আমাদের আয় কমছে। বর্তমানে এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে রকমভেদে ১৩ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে বেশির ভাগ চাষির খেতেই রকমভেদে ১০ থেকে ১৬ ফুট লম্বা পাট হয়েছে। তবে আল্লাহর রহমতে এবার পানি নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। জাগ দিতে দূরে যেতে হচ্ছে না। তাই খরচও একটু কমেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চলছে পাটের ভরা মৌসুম। তাইতো পাট কাটা, পচানো, আঁশ ছাড়ানো আর ঘরে তোলার কাজে বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকার পাট চাষিদের। চাষিরা বলছেন, মাঠে পাটের অবস্থা খুব ভালো।তবে কামলার দামটা একটু বেশি দিতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ২৪ হাজার ৩শ ৭ হেক্টর জমিতে, আর মোট পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. খান মো. মনিরুজ্জামান জানান, পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশে পাট উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে। পাটচাষের জন্য প্রয়োজন পরিবর্তনশীল আবহাওয়া অর্থাৎ কখনও বৃষ্টি আবার কখনও রোদ। এ মৌসুমে আবহাওয়া ছিল অনুকূল। তাই পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এমএস