নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ৫ সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে সন্ত্রাসী ইফতেখার আহমেদ ফরিদসহ তার বাহিনীর সদস্যরা।
সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত সাংবাদিকদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সহযোগিসহ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তির পর এমন তথ্য পাওয়া যায়।
ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক অঞ্চল শরফুদ্দিন ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ওসি কামাল উদ্দিন আহত সাংবাদিকদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। পরে তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
গ্রেফতাররা হলেন- ফতুল্লার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি ইফতেখার আহমেদ ফরিদ ও তার সহযোগী কালাম। এদের মধ্যে ফরিদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে মুকুলকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাসহ একাধিক অস্ত্র মামলা রয়েছে।
এছাড়া ফরিদের বিরুদ্ধে পঞ্চবটি এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তার অত্যাচারে এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
এদিকে, সন্ত্রাসীদের হামলায় সাংবাদিকদের মধ্যে আহত হয় ফতুল্লা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন প্রধান, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান অনু, সাংবাদিক আব্দুর রহিম, আব্দুল আলীম লিটন ও ডিয়েল।
এদের মধ্যে অনু ও ডিয়েলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।
ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ জানান, ফরিদ প্রায় সময় পঞ্চবটি এলাকায় বিভিন্ন দোকানে চাঁদাবাজি করে। সোমবারও ফতুল্লা প্রেসক্লাবে কয়েকটি দোকানে চাঁদা চাইতে আসলে তাকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে দোকানিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। পরে দোকানিরা প্রেসক্লাবে ফোন করে অভিযোগ করেন।
এ সময় সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী ফরিদ তার বাহিনীর প্রায় ৮ থেকে ১০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করে।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ওসি কামাল উদ্দিন জানান, ফরিদ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মো: শাহাদাত হোসেন/এএম/আরআইপি