২০১৪-১৫ অর্থবছরের ১১ মাসে বেনাপোল কাস্টম হাউসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ২৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩৩২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
বেনাপোল দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর। কলকাতা থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় মাল আনা যায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। আর সে কারণে আমদানিকারকরা এ পথে আমদানি করতে চাইলেও কাস্টমস ও বন্দরে হয়রানি, শুল্ক ফাঁকি, চোরাচালানরোধসহ বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে পারলে রাজস্ব আদায়ের পরিমান কয়েকগুণ বেশি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
দেশের চাহিদার অধিকাংশ পণ্যই এই স্থলপথে আমদানি-রফতানি হয়ে থাকে। কাস্টম সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৯৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আগস্টে ১৯৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২০১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে ২২৭ কোটি ৬১ লাখ টাকার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অক্টোবরে ১৬৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বিপরীতে রাজস্ব আসে ১৬৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। নভেম্বরে ১৬৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ২১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ডিসেম্বরে ১৯৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, জানুয়ারি-১৫ মাসে ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৭২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে ২১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৮৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে আদায় ২৩২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এপ্রিল মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আদায় হয় ২৪৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এবং মে মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ২৮৮ কোটি ৯ লাখ টাকা।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টম বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন জানান, পণ্য খালাসে নজরদারি, আমদানি পন্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়াসহ নানা কারণে রাজস্ব আদায় বেড়েছে।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খান জানান, এখন পণ্য খালাস স্বচ্ছতাভাবে করা হচ্ছে। এখানে ফাঁকি দেবার সুযোগ নেই। এছাড়া বেশি শুল্কের পণ্য যেমন গাড়ি, চেসিস আমদানি বেড়ে যাবার কারণে রাজস্ব আদায়ও বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা পণ্য খালাসে যেমন স্বচ্ছতা এনেছি, তেমনিভাবে কোনো কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে তাদের বিরুদ্ধে।
জামাল হোসেন/এসএইচএস