দেশজুড়ে

পুলিশ হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় শাবরুল গ্রামে পুলিশ হেফাজতে আশেকপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুল হক পিন্টুর (৪৮) মৃত্যুর ঘটনায় চার পুলিশসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

সোমবার নিহতের স্ত্রী খায়রুন্নেছা বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। আদালত মঙ্গলবার মামলার শুনানি শেষে শাজাহানপুর থানা পুলিশের ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসেবে রের্কড করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এ মামলার আসামিরা হলেন- বগুড়া শহরের কৈগাড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আনিসুর রহমান, এসআই রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল আজিবুল ইসলাম ও সাহেদ আলী।

এছাড়া শাবরুল গ্রামের মৃত একরাম হোসেনের ছেলে এনামুল হক মিল্টন ও নিউটন, মৃত মোতাহার আলীর ছেলে ইনসান আলী, মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে আবদুর রাজ্জাক, মৃত আবদুল কাইয়ুমের ছেলে আইয়ুব আলী ও তাহের আলী, সামসুল হকের ছেলে ওয়াহেদ প্রামাণিক ও লিয়াকত আলীর ছেলে জনিকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করেছেন, স্বামী পিন্টুর সঙ্গে প্রতিপক্ষ মিল্টন ও নিউটনদের পুকুর ও জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জের ধরে মিল্টন গত ১৯ আগস্ট শাজাহানপুর থানায় তার স্বামীর তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন। ২২ আগস্ট বিকেল পৌনে ৩টার দিকে কৈগাড়ী ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আনিছুর রহমানসহ ৪ পুলিশ অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে পিন্টুর বসতবাড়িতে প্রবেশ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ সময় পিন্টু এগিয়ে এলে পুলিশ ও আসামিরা তাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে তারা পিন্টুর মৃত্যুর দায় এড়াতে সিএনজিচালিত অটোটেম্পুতে করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকরা তার স্বামীকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেখানে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াই পুলিশি প্রহরায় পিন্টুর মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। পরদিন পুলিশি তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর কাগজে কলমে মরদেহ স্বজনদের হাতে হস্তান্তর দেখানো হলেও পুলিশি প্রহরায় মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

নিহত পিন্টুর স্ত্রী, সন্তান ও তার ভাইয়েরা জানান, আসামিরা হত্যার হুমকি-ধামকি দেয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী স্বপন কুমার সাহা জানান, সোমবার বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু রায়হানের কাছে মামলা করার হয়।

মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত শাজাহানপুর থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসেবে রের্কড করার নির্দেশ দেন এবং সেই সঙ্গে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এএম/এমএস