দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি আর পিচ উঠে গিয়ে বেহাল হয়ে পড়েছে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশ। প্রতিদিন ভাঙাচোরা এ মহাসড়কটি দিয়ে বেশ কয়েকটি জেলার পরিবহন ও যাত্রীরা চলাচল করে। মহাসড়কের এ দুরাবস্থার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোর গতি কমে যাচ্ছে। এতে করে ঈদে ঘরমুখো মানুষগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
তবে ঈদকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে অনেকটা দায়সারাভাবে ইট-সুরকি ফেলে মহাসড়কের গর্ত ভরাটের কাজ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক নামে পরিচিত হলেও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের সব যানবাহন এ মহাসড়ক দিয়েই চলাচল করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক কোনো কারণে বন্ধ থাকলে বিকল্প হিসেবে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কই ব্যবহৃত হয়। মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বিশ্বরোড় মোড় থেকে শুরু করে সদর উপজেলার উজানিসার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া বেহাল এ মহাসড়কে অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই এখন চলাচল করছে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব যানবাহন।
বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, সওজ’র পক্ষ থেকে মহাসড়কের গর্ত ভরাট করা হচ্ছে ইট-সুরকি দিয়ে। অবশ্য ভরাটের কিছু সময় পরই ইট-সুরকি সরে গিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসছে। তাছাড়া ঈদের আগ মুহূর্তে গর্ত ভরাটের কারণে মহাসড়কের দুইপাশে একটু পরপর যানবাহন আটকা পড়ছে।
কয়েকজন পরিবহন চালক জানান, ভাঙাচোরা এ মহাসড়কে থেমে থেমে গাড়ি চালাতে হয়। যাত্রীদের যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয় তেমনি গাড়িরও সমস্যা হয়। এর ফলে মহাসড়কে গাড়ি চালানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে। দ্রুত মহাসড়কটি সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী বাসের কয়েকজন যাত্রী জানান, সিলেট থেকে সরাইল-বিশ্বরোড পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে বাস চললেও বিশ্বরোড় মোড় পার হওয়ার পরেই বাসের গতি কমে গেছে। এতে করে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
তবে সওজ’র কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় মহাসড়ক ঠিক রাখতে আপাতত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছেন। ঈদের পর সংস্কার কাজ শুরু হবে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু এহতেশাম রাশেদ জাগো নিউজকে বলেন, গর্ত ভরাট ছাড়া আপাতত আমাদের কিছুই করার নেই। তবে আশা করছি অচিরেই এ মহাসড়কের পুনর্নিমাণ কাজ শুরু হবে।
আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/জেআইএম