ঈদুল আজহা সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। শুক্রবার ভোরের আগেই যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসে করে যাত্রীরা যেতে থাকেন শিমুলিয়া ফেরিঘাটে।
এদিকে, নব্যতা সঙ্কট ও তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একমাত্র চ্যানেলটি সরু হয়ে যাওয়ায় ছোট-বড় ১৯টি ফেরি দিয়েও যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের।
শুক্রবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাওয়া চৌরাস্তা থেকে ঘাট পর্যন্ত ৫-৬ কিলোমিটার এলাকায় যাত্রীবাহী প্রায় সহস্রাধিক গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এছাড়া সিবোর্ড ও লঞ্চগুলোতেও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘাট থেকে ৫-৬ কিলোমিটার দূরে বাসগুলো যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। শিশু সন্তান ও পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘপথ রোদে হেটে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে যাত্রীরা।
মো. মাসুদ (বরিশালের যাত্রী) বলেন, সম্পূর্ণ রাস্তা জ্যাম পরিবহনগুলো এগোতে পারছে না। শিমুলিয়া বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে আমাদের নামিয়ে দেয়া হয়। বউ-বাচ্চা আর লাগেজ নিয়ে রোদের মধ্যে হেঁটে যেতে হচ্ছে।
শরীয়তপুরের যাত্রী সুমি বেগম বলেন, এবারের মতো ভোগান্তি আর কখনও দেখিনি। এদেশে ভিআইপিদের কোনো সমস্যা নেই। সব সমস্যা আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের।
মাদারীপুরের উজ্জল অভিযোগ করে বলেন, নাব্যতা সঙ্কট পদ্মার নিত্য দিনের ঘটনা। কিছুদিন আগে সঙ্কট নিরসনে ড্রেজিং করা হলেও তা চলমান থাকা প্রয়োজন ছিল। ঈদের সময় কর্তৃপক্ষের এমন অব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।
লৌহজং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ঘাটে ঈদ উপলক্ষে বাড়তি চাপ রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যাত্রীদের ভোগান্তি ছাড়া পার করার জন্য। নদীতে স্রোত, নাব্যতা সঙ্কট ও যানবাহন তুলনায় ফেরি কম থাকায় অতিরিক্ত সময় লাগছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।
শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসির এজিএম শাহ খালেদ নেওয়াজ বলেন, আমাদের ১৯টি ফেরি চালু আছে। কিন্তু তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সঙ্কটের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রো রো ফেরিগুলো ঠিকমতো চলতে পারছে না। লৌহজং চ্যানেলটিতে প্রায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া ছোট ফেরিগুলো দিয়ে যথেষ্ট পরিমাণ যানবাহন পারাপার করা যাচ্ছে না। যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। কিছু কিছু ফেরিতে যানবাহনের তুলনায় যাত্রীও পারাপার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এএম/পিআর