আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে লাল সূর্য। হাওয়া বইছে জোর। না ঠান্ডা, না গরম। ঈদুল আজহা ঘিরে গতকাল শনিবার সন্ধ্যার আগে আগে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে হাজারো পর্যটকের ভিড় জমে।
এমন প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে পথের ভোগান্তির কথা ভুলে যান পর্যটকেরা। বিপুলসংখ্যক পর্যটক পেয়ে হোটেল-মোটেলের মালিক ও কর্মচারীদেরও আনন্দ ধরে না। গত দুই বছরের ব্যবসার ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন তারা।
প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে সাগরের বিশালতা উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমিয়েছেন এখানে। সারা বছর পর্যটকদের চাপ না থাকলেও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাসহ বছরের বিশেষ বিশেষ দিনে পর্যটকদের বাড়তি সেবা দিতে প্রস্তুত থাকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার হোটেল মোটেলসহ পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন আগামী এক সপ্তাহ এই ব্যস্ততা থাকবে।
রোববার সকাল থেকে বাস, টেম্পু, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসযোগে দলে দলে পর্যটক আসতে শুরু করেন এখানে। কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেট, ঝিনুকের দোকান, খাবারঘর, চটপটির দোকানসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে।
এছাড়া নারিকেল বাগান, ইকোপার্ক, জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার, সীমা বৌদ্ধবিহার, সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চলখ্যাত ফাতরার বনাঞ্চল, ফকির হাট, গঙ্গামতির চর, কাউয়ার চর, লেম্বুর চর, শুঁটকিপল্লী ও সৈকতের জিরো পয়েন্টে শিশু কিশোর তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয় সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা।
ঢাকা থেকে স্ব-পরিবারে কুয়াকাটায় ঘুরতে আশা বেসরকারি চাকরিজীবী তাজবির আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, ঈদের ছুটি কাটাতে পরিবারসহ এখানে এসেছি। বিচ ও শহরের পরিবেশ ভালো। তবে আরও উন্নত হলে ভালো হতো বলে জানান তিনি।
আবাসিক হোটেল রিয়াজের মালিক জুবায়ের আহম্মেদ রিয়াজ খান জাগো নিউজকে বলেন, পর্যটকদের আগমনে এখানকার হোটেলগুলো কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে পেয়েছে।
অপরদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সেবা দিতে কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকেও বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কুয়াকাটার খাবার হোটেল ব্যবসায়ী সাবের আহম্মেদ ভূঁইয়া বলেন, এখানে আসতে সড়ক পথে তিনটি নদীতে ফেরি পারাপার ছিল এক সময় চরম ভোগান্তির। এখন ফেরির পরিবর্তে সেতু হয়ে গেছে। মাত্র ২৫ মিনিটে এ পথটুকু পার হওয়া যায়। যার কারণে গত দুই বছর ধরে বিশেষ দিনগুলোতে কুয়াকাটায় পর্যটক-দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের ব্যাপক আগমনের কারণে কুয়াকাটা সৈকতসহ পার্শ্ববর্তী স্পটগুলোতে যাতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
জেল প্রশাসক ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ড. মো. মাছুমুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ঈদে আগত পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগত পর্যটকরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে পরিবার পরিজন নিয়ে কুয়াকাটা বিচের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/এমএস