মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজাকার কমান্ডার হাছেন আলীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-১। মঙ্গলবারের এ রায় শোনার পর কিশোরগঞ্জবাসী আনন্দ মিছিল বের করেছেন।এছাড়া এ রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে মামলার বাদীসহ নির্যাতনের স্বীকার শহীদ পরিবারের লোকজন। দুপুরে রায় ঘোষণর পর পরই আনন্দে মেতে উঠে কিশোরগঞ্জবাসী। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৫ মে ময়মনসিংহ জেলার কেন্দুয়া গ্রামের সতীশ ঘোষের স্ত্রী সঞ্জুবালা ঘোষ বাদী হয়ে রাজাকার হাছেন আলীর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি মামলা করেন। পরে মামলাটি মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল হাছেন আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ২১ আগষ্ট তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করা করা। ২৪ আগষ্ট অভিযোগ আমনে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগে থেকেই পালিয়ে ছিলেন রাজাকার হাছেন আলী। জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ শহরের প্যারাভাঙ্গা শহীদ খায়রুল জাহান বীর প্রতীককে হত্যা করেন হাছেন ও হোসেন। শহীদ খায়রুল জাহান বীর প্রতীকের ছোট ভাই সাদেকুজ্জাহান নয়ন বলেন, আমার ভাইকে হত্যার পর রাজাকার হোসেন খায়রুল জাহানের রক্তমাখা গেঞ্জি আমার মায়ের সামনে তুলে ধরে বলে, দেখ তোর ছেলেকে হত্যা করে এসেছি। এর আগে ১৩ নভেম্বর তাড়াইল উপজেলার মাকরান বিল এলাকায় রাজাকার হাসান কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুরা গ্রামের কৃষক সতীশ চন্দ্র ঘোষসহ ৮ জনকে গুলি করে হত্যা করেন। এছাড়া হত্যা করা হয় তাড়াইলের কৃষক জীবনকৃষ্ণসহ বেশ ক’জনকে।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্ত্রী, ভাইসহ অন্য আত্মীয়রা প্রাণভয়ে জেলার নিকলী উপজেলার দামপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যান। কিন্তু সেখানে হানা দেয় হোসেনের নেতৃত্বে একটি রাজাকারদল। রাজাকাররা সেখানে যাওয়ার আগেই নৌকায় করে ভারতের দিকে পালিয়ে যান তারা। রাজাকাররা সৈয়দ নজরুল ইসলামের আত্মীয়দের না পেয়ে সেখানে তাণ্ডব চালায়।শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাতিজা সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম বলেন, সেদিন আমরা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি। হাছেন আলীর বিচার হওয়ায় আমরা খুশি। জাতি আজ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। এদিকে রাজাকার হাছেন আলীর বিচার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার মুক্তিযোদ্ধারা। রায় ঘোষণার পর তারা শহরে আনন্দ মিছিল করেছেন। জেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার মো. আসাদ উল্লাহ বলেন, কুখ্যাত রাজাকার হাছেন আলীর মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় আমরা খুশি। আমরা আশা করছি, জেলার অন্য রাজাকারদেরও এমন সাজা দেয়া হবে।মামলার বাদী সঞ্জু বালা ঘোষ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এক সময় বিচারের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। দীর্ঘদিন পর রাজাকার হাছেন আলীর মতো একজন কুখ্যাত রাজাকারের বিচার হয়েছে এতে আমি খুশি। এখন শান্তিতে মরতে পারবো। তিনি দ্রুত এ রায় কার্যকরের দাবি জানান। এছাড়া এলাকার অন্যান্য রাজাকারদের বিচার দ্রুত শেষ হবে এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।নূর মোহাম্মদ/এসএস/এমএস