দেশজুড়ে

শিমুলিয়া নৌরুটে নাব্য সঙ্কট, বিকল্প পথে চলাচলের নির্দেশ

মুন্সীগঞ্জ লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে নাব্যতা সঙ্কট ও স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলে চরম বিঘ্নতার সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে রো রো ফেরিসহ বেশিরভাগ ফেরি।

সোমবার সকাল থেকে ৫টি ফেরি ও পরবর্তী আরও ২টিসহ মোট ৭টি ফেরি দিয়ে কোনো রকমে ছোট যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তবে ভারি যানবাহন বিকল্প পথ দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারি জানান, সোমবার সকাল থেকে ফরিদপুর, ঢাকা, কুমিল্লা, কাকলী, করবী ও কেতকী দিয়ে ছোট যানবাহনসহ যাত্রীদের পারাপার করা হচ্ছে। যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকলে পরবর্তীতে আরও দুইটি ফেরি সংযুক্ত করা হয়। নাব্যতা সঙ্কটের কারণে রোববার রাতে লেনটিন, রায়পুরা ও যমুনা যানবাহনসহ লৌহজং চ্যানেলে আটকে যায়।

তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লেনটিন ফেরিটি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু পদ্মার পানি আরও কমে যাওয়ায় বাকি দুইটি ফেরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে জোয়ারে পানি বাড়লে আবার চেষ্টা করা হবে। পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত এ রুট দিয়ে হালকা ও ছোট যানবাহন পারাপার করা হবে।

মাওয়া-কাওরাকান্দি ট্রাফিক ইনেসপেক্টর মো. সিদ্দিক জানান, রোববার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি টিম শিমুলিয়া ঘাট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। নদীর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেন ভারি যানবাহনগুলোকে পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে পারাপার করবেন। শুধু নাইট কোচ ও ছোট যানবাহন এ রুট দিয়ে পারাপার হবে।

মাওয়া নৌ-ফাড়ি সাব-ইন্সপেক্টর (টুআইসি) মো. জামসেদ জানান, শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে ২১টি ফেরির মধ্যে ৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। যা যানবাহনের তুলনায় অত্যন্ত কম। ফেরি চলাচলের এমন বিপর্যয় এ রুটে বিগত সময়ে দেখা যায়নি। গত রাতে পদ্মার লৌহজং চ্যানেলটিতে তিনটি ফেরি আটকে ছিল। এর মধ্যে একটি উদ্ধার করা হয় সকালে। রায়পুরা নামের অপর ফেরিটি স্রোতের টানে চাঁদপুরের পালের চরের দিকে চলে যায়। যা উদ্ধারে কাজ চলছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ড্রেজিং) আব্দুল মতিন জানান, একটি ড্রেজার মেশিন ড্রেজিং করতে ২ নটিক্যাল বেগে স্রোতের বিপক্ষে কাজ করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে পদ্মা ৫ নটিক্যাল বেগে স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আমাদের পাইপ ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ভেঙে ছুটে যাচ্ছে। আমাদের দেশীয় বিআইডব্লিউটিএ দুইটি ড্রেজার ডাউনে ও চায়না মেজর ব্রিজের একটি বড় ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং কাজ চলছে। আরেকটি ড্রেজার সংযুক্ত হবে।

তিনি আরও জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র সকল কর্মকর্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘাট এলাকায় কাজ করছেন। আগামী বৃহস্পতিবার রো রো ফেরিসহ সব ধরনের ফেরি এই নৌরুটে চলাচল করবে বলেও আশাবাদী তিনি।

ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এএম/এমএস