প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ শেষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেরা যানবাহনের চাপ দেখা গেছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চাপ আরও বেড়ে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দুই লাইনে সারিবদ্ধ অন্তত কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়েছে।
এদিকে, নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে নদী পার হতে ফেরিগুলোর দ্বিগুণ সময় লাগায় নদী পারের অপেক্ষায় দৌলতদিয়া প্রান্তে যাত্রীবাহী পরিবহন, প্রাইভেটকার, মাক্রোবাসসহ শত শত যানবাহন সারিবদ্ধ রয়েছে।
এতে করে ভোগান্তি পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তবে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী পরিবহনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপর করছেন কর্তৃপক্ষ।
বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে ১৯টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলাচল করছে।
কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা জানান, নদী পারের অপেক্ষায় দৌলতদিয়া প্রান্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। কখন ফেরি পাবেন আর কখন বাসায় যাবেন তা কেউ জানেন না। তবে নদীতে স্রোতের কারণে যানবাহন পারাপারে ফেরির বেশি সময় লাগায় তাদেরকে সিরিয়ালে থাকতে হচ্ছে বলে ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট আসাদুজ্জামান জানান, যানজট নিরসনে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তারা দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ও সড়কে কাজ করছেন। দৌলতদিয়া প্রান্তে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন নদী পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে রয়েছে। ঠিক কত সংখ্যক গাড়ি সিরিয়ালে রয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে এবং দৌলতদিয়া প্রান্তে চারটি ফেরিঘাটের চারটি চালু রয়েছে। কাবেরি নামে আরও একটি ফেরি বহরে যুক্ত হবে। ১৯টি ফেরি থাকলে এবং প্রাকৃতিক কোনো সমস্যা না হলে কর্মমুখী মানুষ পারাপার করতে কোনো সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।
রুবেলুর রহমান/এএম/আইআই