অ্যাম্বুলেন্সটির দাম ২৬ লাখ টাকা। আর মেরামতের জন্য প্রয়োজন মাত্র দুই লাখ টাকা। কিন্তু মেরামতের অভাবে গত দুই বছর যাবৎ একইভাবে পড়ে রয়েছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে।
মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হলেও বরাদ্ধ না পাওয়া আর সমন্বয়হীনতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি বলে জাগো নিউজকে এসব কথা জানান কালিগজ্ঞ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক আদম আলী।
তিনি আরও জানান, দুই বছরের অধিক সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি ফেলানো। মাত্র দুই লাখ টাকার জন্য ২৬ লাখ টাকা মূল্যের গাড়িটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সের চাকাগুলোও নেই। তবে চাকাগুলো কোথায় জানতে চাইলে চালক আদম আলী বলেন, চাকাগুলো খুলে রেখেছি পোড়া মবিল লাগাব বলে। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার সঙ্গে দেখেনি বলেই আজও মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
গাড়িটির হাইড্রোলিক বদলানো, বল জয়েন্ট নেই, টায়ার নেই, হেড লাইট নেই। এগুলো লাগালে গাড়িটি সচল হবে বলে জানান তিনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার সঙ্গে যদি বিষয়টি দেখতেন তবে এতদিন গাড়িটি ঠিক হওয়ার কথা।
এদিকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ আকছেদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, গাড়িটি মেরামতের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি বরাবর চিঠি দিয়েছি একাধিক বার, কিন্তু কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। গত বছর চিঠি দেয়া হয়েছিল এ বছরও দেয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
অ্যাম্বুলেন্সটি সচল থাকলে রোগীরা সেবা বেশি পেত কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অবশ্যই রোগীরা সেবা বেশি পেত। কিন্তু বরাদ্দ না পেলে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একটি অ্যাম্বুলেন্স চলমান রয়েছে, সেটির জন্য ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। সেখান থেকে ভ্যাট বাদ দিয়ে ৬৫ হাজার টাকা ছিল। সেসব টাকা দিয়ে চলমান গাড়িটার জন্য মালামাল কেনা হয়েছে।
আকরামুল ইসলাম/এমএএস/জেআইএম