দেশজুড়ে

চাঁদপুরে ২ সেচ প্রকল্পে ইজারা বন্ধ : রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

চাঁদপুর জেলার দুটি বৃহৎ সেচ প্রকল্পের ২৮৮টি বোরোপিট ও জলাশয়ে গত তিন বছর যাবৎ ইজারা বন্ধ রয়েছে। এতে সরকার বিরাট অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মতলব মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরে ও বাইরে ১৪৪টি বরোপিট ও জলাশয় এবং চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরে ১৪৪ খণ্ডে বোরোপিট রয়েছে। এসব বোরোপিট ও জলাশয়ে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ ইজারার মাধ্যমে মাছ চাষ হয়ে আসছিল। এসময় সরকারও কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেত। যার কারণে সরকার মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে এসব বোরোপিট ও জলাশয়গুলো মাছ চাষের আরও উপযোগী করে তোলে। কিন্তু হঠাৎ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৫ সাল থেকে বোরোপিট ও জলাশয়গুলো ইজারা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও অবৈধভাবে মাছ চাষ অব্যহত থাকায় এলাকায় দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং বাড়ছে। এ কারণে যেকোনো মুহূর্তে এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মতলব মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ভেতরে ও বাইরে ১৪৪টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নে ১৩টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে, এগুলোর ইজারার মেয়াদ ২০০৯, ২০১০ ও ২০১৫ সালে শেষ হয়েছে।

দুর্গাপুর ইউনিয়নে ২০টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে, এগুলোর ইজারার মেয়াদ ২০১০, ২০১১ ও ২০১৫ সালে শেষ হয়েছে। কলাকান্দা ইউনিয়নে ১০টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে, এগুলোর ইজারার মেয়াদ ২০১৯ ও ২০১০ সালে শেষ হয়েছে। মোহনপুর ইউনিয়নে ৫টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে, এগুলোর ইজারার মেয়াদ ২০০৯ সালে শেষ হয়েছে।

এখলাসপুর ইউনিয়নে ১১টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে, এগুলোর ইজারার মেয়াদ ২০১০সালে শেষ হয়েছে। জহিরাবাদ ইউনিয়নে ৩টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে, এগুলোর ইজারার মেয়াদ ২০১৫ ও ২০১৬ সালে শেষ হয়েছে। ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নে ২৪টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে, এগুলোর ইজারার মেয়াদ ২০০৪, ২০০৯, ২০১০, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে শেষ হয়েছে।

ফতেপুর পশ্চিম ২৭টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে, এগুলোর ইজারার মেয়াদ ২০০৯, ২০১০, ২০১১ ও ২০১৫ সালে শেষ হয়েছে। ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ৫টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে, এগুলোর ইজারার মেয়াদ ২০১০ ও ২০১১সালে শেষ হয়েছে। ফরাজিকান্দি ইউনিয়নে ২১টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে, এগুলোর ইজারার মেয়াদ ২০০৯, ২০১০ ও ২০১৫সালে শেষ হয়েছে। সুলতানাবাদ ইউনিয়নে ৫টি বোরোপিট ও জলাশয় রয়েছে, এগুলোর ইজারার মেয়াদ ২০১০ সালে শেষ হয়েছে।

বর্তমানে এসব বোরোপিট ও জলাশয়ে ইজারা ছাড়াই পূর্বের ইজারাদাররা দখল করে মাছ চাষ করে যাচ্ছে। ফলে সরকার এদের কাছ থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। যদিও ইদানিং দু’একটি জলাশয় ইজারা দিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলে জানা যায়।

অপরদিকে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরে ১৪৪ খণ্ডে বোরোপিট মাছ চাষে ইজারা প্রদান করা হত। এসব বোরোপিটে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ একর, মধ্যম ৪, ৩ ও ২ একর এবং সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ করে রয়েছে। এছাড়া মরা ডাকাতিয়া নদী রয়েছে। ইজারা বন্ধ হলেও পূর্বের ইজারাদাররা এসব বোরোপিট ও মরা ডাকাতিয়ায় মাছ চাষ করে আসছে। সরকার এসব বোরোপিট ও মরা ডাকাতিয়া নদী থেকেও কোনো ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না।

বাপাউবো চাঁদপুর মেঘনা ধনাগোদা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আতাউর রহমান জাগো নিউজকে জানান, স্থানীয় ও দাফতরিক কিছু জটিলতার কারণে ২০১৫ সাল থেকে স্থানীয়ভাবে মেঘনা ধনাগোদার বোরোপিট ও জলাশয়গুলো ইজারা প্রদান বন্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ঢাকাস্থ প্রধান দফতরের অনুমতি স্বাপেক্ষে ইজরা প্রদান চালু আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তদন্তও চলছে। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সফিকুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, চাঁদপুরে দু’টি সেচ প্রকল্প রয়েছে। একটি চাঁদপুর সেচ প্রকল্প, যেটি চাঁদপুর, হাইমচর ও ফরিদগঞ্জ এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। আরেকটি হচ্ছে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, যেটি মতলব উত্তর এলাকায় বিস্তৃত।

ইকরাম চৌধুরী/এফএ/এমএস