দেশজুড়ে

নকলে বাধা, অধ্যক্ষের কক্ষ ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ

পরীক্ষায় নকল করতে বাধা দেয়ায় শিক্ষককে লাঞ্ছিতকারী ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার করায় বগুড়ার সরকারি শাহ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষ ও অফিস কক্ষ ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ সময় তারা অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করে। সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক চলছিল থানায় অভিযোগ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে নকলের করার অভিযোগে একজন শিক্ষক এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী জোবায়ের হাসান জয়ের খাতা কেড়ে নেয়। এ সময় সবার সামনে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে জয়।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। সোমবার ওই ছাত্র ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে এলে কলেজের অধ্যক্ষ তার ব্যবহারিক খাতা কেড়ে নিয়ে তাকে পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিকেলে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজের অফিস কক্ষ ছাড়াও অধ্যক্ষের কক্ষে হামলা চালিয়ে টেবিল, চেয়ারসহ অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

এ সময় তারা অধ্যক্ষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা ছাড়াও লাঞ্ছিত করে। পরে অন্যান্য শিক্ষকরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের রোষানল থেকে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা কলেজ ক্যাম্পাসে গেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা মূল গেটে প্রবেশে বাধা দেয়। একপর্যায়ে শিক্ষকদের হন্তক্ষেপে সাংবাদিকরা কলেজের ভেতরে প্রবেশ করে।

সরকারি শাহ সুলতান কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা দাবি করেছেন, অধ্যক্ষ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আইসিটি ল্যাবের জন্য ৩০০ টাকা করে নিচ্ছেন। আমরা এই অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি। ভাঙচুর কারা করেছে তা আমাদের জানা নেই।

অন্যদিকে, সরকারি শাহ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. এজাজুল হক জানান, এক ছাত্রকে বহিষ্কারের পরপরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার কক্ষে এসে অশালীন আচরণ করে। একপর্যায়ে তারা অফিসের এবং অধ্যক্ষ কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। সেই সঙ্গে অসাদাচারণ করে তারা।

আইসিটি ল্যাবের ফি বিষয়ে তিনি বলেন, কলেজের নিয়ম অনুসারে রশিদের মাধ্যমে এই টাকা নেয়া হচ্ছে। এখানে অনিয়মের কোনো প্রশ্নই আসে না।

লিমন বাসার/এএম/আইআই