দেশজুড়ে

সারিয়াকান্দিতে বাঁধ ভেঙে ১০ গ্রাম প্লাবিত

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ কাজ চলাকালেই পানির তোড়ে ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে করে আশপাশের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেই সাথে জমির উঠতি ফসলগুলোও ডুবে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী জানায়, গত বছর চন্দনবাইশার শেখপাড়ায় বাঁধ ধসের পর এমনিতেই নদীপাড়ের মানুষ চরম আতঙ্কে ছিলো। এরপর গতকাল হঠাৎ করেই কামালপুর ইউনিয়নের গোদাখালি গ্রামের কাছে নির্মিতব্য বাঁধের ৫০ মিটার ধসে যায়। মুহুর্তেই যমুনার পানি আশপাশের হড়িখালি, সাতভিটা, দড়িপাড়া, বুড়ইল, সুতানারা, বেড়েরবাড়িসহ ১০টি গ্রামে ঢুকে পড়ে ঘরবাড়ি ও ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যায়।বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোতালেব হোসেন জানান, গত মে মাসের ৭ তারিখ থেকে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার কুদুপপুর থেকে কামালপুর ইউনিয়নের গোদাখালি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বালির বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। যথাসময়ে কাজ শেষ করতে এই কাজে নৌবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। তবে হঠাৎ করে যমুনা নদীর পানি বাড়তে থাকলে স্রোতের তোড়ে গোদাখালি গ্রামের কাছের বাঁধটি ভেঙে যায়। ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানির স্রোতে গোদাখালিতে কমপক্ষে ১০০টি ঘর ভেঙে পড়ে গেছে। পানির তোড়ে অনেক পরিবারের আসবাবপত্র, হাঁস-মুরগি এবং মাচার ধান, চাল, গম ভেসে গেছে। এছাড়া জমির উঠতি ফসল পাটেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।গতকাল বিকেলেই বেশকিছু পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। প্রবল স্রেতের কারণে সেখান থেকে বের হতে না পেরে বেশ কয়েকটি পরিবার আটকা পড়েছে। ঘরের মধ্যে পানি হওয়ায় অনেকে চালের ওপর বসে রাত কাটিয়েছে। এদিকে বাঁধ ভাঙার সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান স্থানীয় এমপি আবদুল মান্নান। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন।লিমন বাসার/এসএস/এমএস