দেশজুড়ে

কুড়িগ্রামে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা পরিবারকে টেকনাফে ফেরত

 

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে গোপনে আশ্রয় নেয়া এক রোহিঙ্গা পরিবারকে টেকনাফে ফেরত পাঠানো হয়েছে। উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা ইউনিয়ন পাথরডুবির দিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে রোববার রাতে টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

ফেরত পাঠানো রোহিঙ্গারা হলেন- আবুল কালাম (৩০), তার স্ত্রী সফিকা (২০) এবং তাদের দুই কন্যাসন্তান রোজিনা (৪) ও রোকেয়া (৩)। রোহিঙ্গা পরিবারটির প্রধান আবুল কালাম শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার বাবা-মা ও পাঁচ ভাই বাংলাদেশে এসেছেন।

মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের মুখে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসার দুই মাস পর বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় টনক নড়ে প্রশাসনের। দুই মাস আগে উখিয়ায় ত্রাণসহায়তা দিতে গিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা পরিবারটির দুর্দশা দেখে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ডের মোকাদ্দেস আলী। তার বাড়িতে ছিল পরিবারটি। আবুল কালাম সেখানে নরসুন্দরের কাজ করতেন। তাকে এখানে নরসুন্দরের দোকানও করে দেয়া হয়।

আবুল কালাম জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু থানার তারাশু গ্রামের বাসিন্দা তারা। বার্মিজ সেনাবাহিনীর আক্রমণে তিনি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। প্রাণ বাঁচাতে তারা দুই মাস আগে নাফ নদী পেরিয়ে চট্টগ্রামের উখিয়ায় প্রবেশ করেন। সেখানে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নে। তিনি দয়া করে ভুরুঙ্গামারীতে নিয়ে আসেন। সেখানে বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোকাদ্দেস আলীর বাড়িতে অবস্থান নেন তারা।

এ বিষয়ে পাথরডুবি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির মিঠু জানান, শুক্রবার পরিবারটি এখানে আসে। পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। রোববার রাতে থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের চট্টগ্রামের আশ্রয় শিবিরে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশের ওসি তাপস চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, দুই মাস আগে পরিবারটি এখানে এসেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরিবারটির প্রধান আবুল কালাম প্রতিবন্ধী। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মোকাদ্দেসের বাবা বাবলু হাজির মাধ্যমে তাদের টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নাজমুল হোসাইন/এএম/আরআইপি