বগুড়ায় বিএনপির হরতালে স্বাভাবিক ছিল সবকিছু। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে সকাল থেকেই যানবাহন চলাচল করেছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী স্টেশন থেকে ছেড়েছে লালমনিরহাট-ঢাকা রুটের ট্রেন। ভোর থেকেই শহরের রাস্তাঘাটে চলাচল করেছে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলার।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন ছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশ। সকাল থেকেই তালাবদ্ধ রাখা হয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়। ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত কোথাও দেখা মেলেনি বিএনপির নেতাকর্মীদের।
দলীয় সভাপতিকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে বিএনপির ডাকা শনিবারের অর্ধদিবস হরতালের চিত্র এটি। হরতাল ডেকে মাঠে ছিল না নেতাকর্মীরা।
এদিকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, শুক্রবার রাতে গোপন বৈঠকের সময় শহরের হাকির মোড় এলাকা থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুল আলম পিপলুসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের সবার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এরমধ্যে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা রয়েছে।
অপরদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন তাদের ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করার অভিযোগ করেছেন।
জাগো নিউজকে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে হরতালের আগে রাতেই আমাদের ১০ নেতাকে আটক করা হয়। আর সকালে হরতাল চলাকালে ইয়াকুবিয়ার মোড় থেকে যুবদলের মিছিলের সময় সুজন, ফরহাদ ও জজ মিয়া নামে আরও তিন কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত ২০১৫ সালের একটি গাড়ি পোড়ানো মামলায় নথিতে পলাতক থাকা জেলা বিএনপি সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১-এর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক ইমদাদুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পরপরই জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই হরতালের ডাক দেয়া হয়।
সাইফুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে আধাবেলা হরতাল পালনসহ নয়দিনের কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন। নিরাপত্তার স্বার্থে সাইফুল ইসলামকে শুক্রবার সকালে বগুড়া থেকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠিয়ে দেয় কারা প্রশাসন।
হরতাল থাকলেও শনিবার সকাল থেকেই শহরের সাতমাথায় যানজট দেখা যায়। যাত্রীবোঝাই ২০ থেকে ২৫টি দূরপাল্লার বাস সাতমাথা থেকে ছেড়ে যেতে দেখা যায়। রাজশাহী অভিমুখী বাসও স্বাভাবিক সময়ে ছেড়ে যায়। সকালে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও দিনাজপুরের বাস। চলাচল করতে দেখা গেছে শেরপুর রুটের বাসও। ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলও ছিল স্বাভাবিক।
সাতমাথায় সকাল থেকেই জলকামান ও এপিসি নিয়ে অবস্থান করে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। শহরের দু’একটি স্থান ছাড়া কোথাও হরতাল সমর্থনকারীদের দেখা মেলেনি।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, সকাল থেকে শহরের কোথাও হরতাল সমর্থনকারীরা মাঠে নামেনি। জনজীবন স্বাভাবিক আছে। কোথাও হরতালের প্রভাব পড়েনি।
লিমন বাসার/এফএ/জেআইএম