খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে তিন মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. সাইফুর রহমান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।
এরআগে গত ২৫ আগস্ট খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩৫৮টি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাত থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ-দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে।
পরে ওই পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। অনিয়ম ও দুর্নীতি বিরুদ্ধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জেলায় হরতাল পালন করা হয়। এসবের প্রেক্ষাপটে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কিন্তু তদন্ত চলাকালীন নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পলাশ চৌধুরী ও মো. আবুল কালাম আজাদ নামে দুই ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে আজ হাইকোর্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া তিন মাসের জন্য স্থিতাবস্থার নির্দেশ দেন।
খাগড়াছড়ির প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩৫৮টি শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ২৫ আগস্ট। ওই পরীক্ষা নিয়ে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রতি পদে সাত থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে লোক দেখানো পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্য এ টাকা নিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে পরে ৯ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘যোগ্যতাম মাপকাঠি টাকা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পার্বত্য চুক্তির ফলে সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা বভাগ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক-প্রাথমিক ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি ৩) অধীন দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে এবং অন্যান্য রাজস্ব খাতে এসব শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। জেলায় ৩৯২টি শূন্য পদের বিপরীতে ৩৫৮টি পদে নিয়োগ হবে। এ জন্য গত ২৫ আগস্ট জেলা সদরের পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন হাজার ২৮৩ পরীক্ষার্থীর জন্য লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তবে একই দিন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা থাকায় এক হাজার ৩৫৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, মেধাবীদের বাদ দিতে কৌশল হিসেবে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার দিন লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরে ২৮ আগস্ট ফল প্রকাশিত হয়। এতে মাত্র ৭১০ জনকে পাস দেখানো হয়েছে।
এফএইচ/এসআর/আইআই