ওড়নার বদলে ‘রিসা’ আর শাড়ির বদলে ‘রিনাই’ দিয়ে সাজানো হয়েছে দশরথী দুর্গাকে। পায়ে নুপুরের পরিবর্তে ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী ‘বেংকি’ ব্যবহার করা হয়েছে। মালা হিসেবে গলায় পরানো হয়েছে ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী ‘রাংবতাং’ (পয়সা দিয়ে তৈরি বিশেষ মালা) আর হাতে চুড়ির বদলে ‘বাংডিবাই’ ব্যবহার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সারাদেশ থেকে ব্যতিক্রমী আয়োজনে পাবর্ত্য খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খাগড়াপুর শ্রী শ্রী অখণ্ড মণ্ডলী মন্দিরে ত্রিপুরা ঐতিহ্যে আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে দশরথী দুর্গা দেবীর। সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, লক্ষ্মীসহ সব প্রতিমাকে সাজানো হয়েছে ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও অলঙ্কারে।
সম্প্রতি সরেজমিনে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খাগড়াপুর শ্রী শ্রী অখণ্ড মণ্ডলী মন্দিরে দশরথী দুর্গাকে সাজানো হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাজে। মঞ্চসাজে রয়েছে পাহাড়ের রূপ।
দুর্গাসহ সব প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সাজসজ্জার কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক ছাত্র সাপু ত্রিপুরা।
খাগড়াপুর শ্রী শ্রী অখণ্ড মণ্ডলী মন্দির পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক খগেন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা বলেন, মা দুর্গার বিভিন্ন নামের একটি হচ্ছে ‘পার্বতী’। সে নামের সঙ্গে মিল রেখেই পাহাড়, ঝর্ণা, গাছ সবমিলিয়ে আমরা প্রকৃতির অবয়ব ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
এবছর পার্বত্য খাগড়াছড়িতে ৪৯টি পূজামণ্ডপে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। তার মধ্যে খাগড়াছড়ি সদরে ১৫টি, মাটিরাঙ্গায় ৬টি, গুইমারায় ৩টি, মহালছড়িতে ২টি, মানিকছড়িতে ২টি, লক্ষ্মীছড়িতে ১টি, দীঘিনালায় ৯টি, পানছড়িতে ৮টি এবং রামগড়ে ৩টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে ১টি ও দীঘিনালায় ২টি ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহত ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে সার্বজনীন ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আলী আহমেদ খান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব উৎসাহ উদ্দীপনায় উদযাপনে পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান দুই ধরনের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম/এমএস