পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত সার্জেন আলতাফ মন্ডলের (৪০) মরদেহ আগামীকাল রোববার সকাল ১০টায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ১০ নং পুনট্রি ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছাবে।
এর আগে রোববার ভোর ৪টায় জাতিসংঘের বিশেষ হেলিকপ্টার যোগে মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছাবে। সেখান থেকে মরদেহ ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হবে। ঢাকা সেনানিবাসে জানাজা শেষে হেলিকপ্টার যোগে সৈয়দপুর সেনানিবাসে নিয়ে আসা হবে। এখানে দ্বিতীয় জানাজা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেনাবাহীনির গাগিযোগে সড়ক পথে সার্জেন আলতাফ মন্ডলের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি চিরিরবন্দর উপজেলার ১০ নং পুনট্রি ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর মন্ডলপাড়া গ্রামে নিয়ে আসা হবে। সেখানে সকাল ১০টায় কুতুবডাঙ্গা ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে।
নিহত সার্জেন আলতাফ মন্ডলের মামাতো ভাই সাংবাদিক আফসার আলী খাঁন এসব তথ্য জানান। এদিকে বিদ্রোহীদের হামলায় সার্জেন আলতাফ মন্ডল নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে তার গ্রামের বাড়ি বিশ্বনাথপুর মন্ডলপাড়ায় আত্মীয়-স্বজন ভিড় করছে। পরিবার পরিজনের মধ্যে চলছে শোকের মাতম ।
ছেলে নিহতের সংবাদে আলতাফ হোসেনের ক্যানসার আক্রান্ত মা সুরতজান বিবি বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্ত্রী নাসিমা বেগম, দুই মেয়ে মিম (১৭) ও সুমাইয়ার (১০) আহাজারি চলছেই। কোনোভাবেই তাদেরকে কেউ সান্তনা দিতে পারছে না। মরদেহ আসার খবরে আত্মীয়-স্বজন সবাই এসেছেন গ্রামের বাড়ীতে।
জানা গেছে, আলতাফ মন্ডল দুই ভাই এক বোনের মধ্যে মেজো। আলতাফের স্ত্রী নাসিমা ও তার দুই মেয়ে মিম (১৭) ও সুমাইয়া(১০) নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে অবস্থান করেন। সৈয়দপুর ক্যান্টমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে মিম একাদ্বশ এবং সুমাইয়া ৫ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে।
নিহত সার্জেন্ট আলতাফ মন্ডল ১৯৯২ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সৈয়দপুর সেনানিবাস থেকেই ৪ মাস আগে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যোগ দেন। তার মা সুরতজান বিবি (৬০) ক্যানসারে আক্রান্ত। বাবার মৃত্যুর পর মা সুরতজান বিবি ভাইয়ের বাড়ি চিরিরবন্দরের দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে অবস্থান করছেন। বিশ্বনাথপুর মন্ডলপাড়া গ্রামে নিহত সার্জেন আলতাফ মন্ডলের বাড়িতে রয়েছে তার বড় ভাই মোশাররফ হোসেন (৪৪)।
উল্লেখ্য, ২৪ সেপ্টেম্বর রোববার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে বিদ্রোহীদের হামলায় বাংলাদেশি তিন শান্তিরক্ষী নিহত হন। তাদের একজন আলতাফ হোসেন মন্ডল। আহত হন আরও ৪ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী। বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিরক্ষীদের সংঘর্ষের পর বোমা বিস্ফোরণে এ হতাহতের এই ঘটনা ঘটে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
এমদাদুল হক মিলন/আরএআর/আরআইপি